ভারত ছাড়ো আন্দোলন:-
নাইকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫ খ্রি.) সময় ভারতবর্ষে আগত ক্লিপস মিশন (১৯৪২ খ্রি.) ভারতীয়দের স্বাধীনতা দানের প্রতিশ্রুতি না দেওয়ায় ভারতীয় নেতৃবৃন্দ চরম হতাশ হন। তাই ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন এরও তীব্র হতে থাকে।
[1] আন্দোলনের প্রস্তাব গ্রহণ:- জাতীয় কংগ্রেস ৭ আগস্ট বোম্বাই অধিবেশনে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। পরের দিনই জাতীয় স্তরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করে।
(2) গণ আন্দোলন:- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের পর দেশবাসী শীর্ষ নেতাদের ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মাদ্রাজ, আসাম ইত্যাদি রাজ্যের কৃষক, নারী, ছাত্র প্রভৃতি সর্বস্তরের ভারতবাসী এই আন্দোলনে শামিল হয়। ফলে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শীঘ্রই গণ আন্দোলনে পরিণত হয়।
[3] আন্দোলনের ব্যাপকতা:- আন্দোলনকারীরা সরকারি দমননীতি উপেক্ষা করে বিলাতি পণ্য ও ব্রিটিশ স্কুলকলেজ বর্জন, মিছিল-মিটিং, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা, রেল-টেলিগ্রাফ-টেলিফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, থানা আক্রমণ প্রভৃতি কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

(4 ) বাংলায় আন্দোলন:- বাংলায় মেদিনীপুরের তমলুক, কাঁথি, পটাশপুর, খেজুরী, বালুরঘাট প্রভৃতি স্থানে ভারত ছাড়ো আন্দোলন প্রবল আকার নেয়। তমলুকে ব্রিটিশ সরকারের বিকল্প তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন এই সরকারের প্রধান। তাঁর অনুগামীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায় ও সুশীলচন্দ্র ধাড়া। মেদিনীপুরের ৭৩ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।
[5] জাতীয় নেতৃবৃন্দ:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিভিন্ন নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ, রাম মনোহর লোহিয়া, নরেন্দ্র দেব, যোগেশ চ্যাটার্জি, অরুণা আসফ আলি, সুচেতা কৃপালনি, উষা মেটা, অচ্যুৎ পট্টবর্ধন প্রমুখ।
উপসংহার:- ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত, অশিক্ষিত জাতিধর্মনির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে ভারত ছাড়ো আন্দোলন প্রকৃত গণ আন্দোলনে পরিণত হয়। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার এই আন্দোলন সম্পর্কে বলেছেন-“বিয়াল্লিশের বিদ্রোহ ছিল মূলত সৈনিকের যুদ্ধ। তাঁরা স্বাধীনতার শহীদের মতো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর