“শান্তির আর এতটুকু সন্দেহ রইল না।” কোন বিষয়ে সন্দেহ ছিল না? এর প্রতিক্রিয়া কী ঘটেছিল?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে ধীরেনকে দেখে তার স্ত্রী শান্তির সন্দেহ ছিল না যে, কোনো অশরীরী আত্মা তাকে ভর করেছে।

গোপনে সন্ধ্যার অন্ধকারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ধীরেন চলে গিয়েছিল ডোবার দিকে। উদ্দেশ্য ছিল তার অকালে খুন হয়ে যাওয়া বোন শুভ্রার সঙ্গে কথা বলা। যখন সে ফিরে আসে তার গেক্তি আর কাপড় কাদায় রক্তে মাখামাখি। ঠোঁট থেকে চিবুক বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ধীরেন শান্তিকে বাঁশ সরিয়ে নিতে বলে কারণ সে সেই বাঁশ ডিঙোতে পারছিল না।

এই বাঁশ শান্তিই দুই গ্রান্ড আগুনে পুড়িয়ে পেতে রেখেছিল যাতে কোনো অশরীরী অনুপ্রবেশ করতে না পারে। ধীরেন তা পেরোতে না পারায় শান্তি নিশ্চিত হয়ে যায় যে অশরীরী আত্মা তাকে ভর করেছে। প্রচণ্ড ভয়ে সে তীক্ষ্ণ তীব্র আর্তনাদ করে ওঠে। প্রতিবেশী এবং গ্রামের লোকেরা ছুটে আসে। কুণ্ডুও চলে আসে। তিন-চার কলশি জল ঢেলে তাকে স্নান করিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। ঠিক যেমন এর আগে দামিনীর সঙ্গে করা হয়েছিল সেরকমই মন্ত্র পড়া, জলছিটানো, মালসার আগুনে পাতা ও শিকড় গুড়োনো ইত্যাদির মাধ্যমে ধীরেনকে নিস্তেজ করে ফেলা হয়। তারপরে মালসার আগুনে কাঁচা হলুদ পুড়িয়ে ধীরেনের নাকের কাছে ধরে কুক্ত বজ্রকণ্ঠে তার পরিচয় জানতে চায়। এবং ধীরেনের তরফ থেকে উত্তর আসে যে সে বলাই চক্রবর্তী, সে-ই শুদ্রাকে খুন করেছে।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment