‘হলুদ পোড়া’ গল্পে ধীরেন চরিত্রের যে রূপান্তর লক্ষ করা যায় তা আলোচনা করো।

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পটিতে অন্ধবিশ্বাস এবং সংস্কারকে ভিত্তি করে তৈরি হওয়া ভৌতিক আবহে অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় ধীরেন চরিত্রের বিবর্তন।

ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে বিএসসি পাস করা স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক শুভ্রার দাদা ধীরেন পাস করা না হলেও বিনামূল্যে ডাক্তারিও করত। অর্থাৎ তার মানসিক ঝোঁক ছিল বিজ্ঞানের প্রতি। লাইব্রেরি তৈরি, তরুণ সমিতি গঠন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে জ্ঞানচর্চা ও মুক্তভাবনার প্রতি তার পক্ষপাতিত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। আর সে কারণেই অসুস্থ দামিনীর চিকিৎসার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হলে ধীরেন নিজে দায়িত্ব না নিলেও কৈলাশ ডাক্তারকে ডাকার পরামর্শ দেয়। শুধু তাই নয় সে কুঞ্জ গুনিনকে ডেকে আনার প্রস্তাবেরও তীব্র বিরোধিতা করে। নবীনকে উদ্দেশ্য করে বলে যে, লেখাপড়া শিখে, জ্ঞানবুদ্ধির অধিকারী হয়ে কুণ্ডকে ডেকে পাঠানো ‘দুর্বৃদ্ধি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। ভূত তাড়ানোর নামে যখন দামিনীকে অত্যাচার করা হচ্ছিল ধীরেন। তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

এহেন ধীরেনকে সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখা যায় কাহিনির শেষ অংশে। বোন শুভ্রার খুন হয়ে যাওয়া তার মনে প্রবল চাপ তৈরি করে। আবার গ্রামের লোকদের কথাবার্তা তাতে ইম্মন জোগায়। চারপাশের পৃথিবী। থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে সে। সন্ধ্যা নামলেই শুভ্রার সঙ্গে। কথা বলার জন্য ধীরেন ব্যগ্র হয়ে ওঠে। নীরবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে। যায়। যখন ফিরে আসে তখন সম্পূর্ণ অন্যরকম চেহারা তার। গেক্কিক্স আর কাপড় রক্তমাখা। ঠোঁট থেকে চিবুক বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। প্রায় জান্তব চিৎকারে সে নিজের নাম ধরে ডাকতে থাকে। আর গুনিন কুঞ্জর মন্ত্র ও ক্রিয়াকর্ম প্রয়োগের পরে সে জানিয়ে দেয় যে সে-ই বলাই চক্রবর্তী এবং সে শুভ্রাকে খুন করেছে। ধীরেনের এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে অন্ধবিশ্বাসের অভিঘাতে আগ্রাসী সমাজমানসিকতার কাছে আত্মিক-সংকটের সুত্র ধরে অসহায় আত্মসমর্পণ।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment