সংজ্ঞা:- বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ আকস্মিক উদ্দীপনায় (সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা) প্রাণীদেহে যে দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার (সাড়া) সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
শ্রেণিবিভাগ:- বিজ্ঞানী প্যাভলভের মত অনুসারে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ: রুশ বিজ্ঞানী প্যাভলভ (Pavlov) প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে প্রধানত দু-ভাগে ভাগ করেছেন; যথা-1. সহজাত বা শর্তবিহীন প্রতিবা ক্রিয়া এবং 2. অভ্যাসগত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
① সহজাত বা শর্তবিহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া:- যে সমস্ত প্রতিবর্ত ক্রিয় জন্মগত অর্থাৎ জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বংশগত সূত্রে পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত। হয়, তাকে সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া শর্তনিরপেক্ষ। হওয়ায় একে শর্তবিহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া-ও বলে।


উদাহরণ:- জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্তন্যপানের ইচ্ছা, উজ্জ্বল আলোকে চোখের পাতা বন্ধ হওয়া, খাদ্যের উপস্থিতিতে লালা নিঃসরণ, বিশেষ সময়ে মল-মূত্রের বেগ অনুভব করা ইত্যাদি সহজাত বা শর্তবিহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ।
② অভ্যাসগত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া:- যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মের পর বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাকে অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন-কোনো কাজ বারবার অনুশীলন করলে কিছুদিন পর মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই ওই কাজটি করা সম্ভব হয়। এইরকম প্রতিবর্ত ক্রিয়া শর্তসাপেক্ষ হওয়ায় একে শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া-ও বলে।
উদাহরণ:- বিজ্ঞানী প্যাভলভ প্রত্যহ কুকুরকে খাবার দিতেন। এইভাবে নির্দিষ্ট এক সময়ে ঘণ্টাধ্বনি করে একটি কয়েকদিন অনুশীলনের পর কুকুরটিকে খাবার না দিয়ে কেবল ঘণ্টাধ্বনি করে – দেখলেন যে, কুকুরটির লালা নিঃসরণ হয়েছে। এরকম প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে তিনি অভ্যাসগত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ারূপে অভিহিত করেন। শিশুদের হাঁটতে শেখা, কথা বলতে শেখা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি এই জাতীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ।
দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর