কৃষক আন্দোলনে ডারতের জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা:-
ভূমিকা:- বিংশ শতকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক আন্দোলনগুলি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
[ 1] অসহযোগ আন্দোলন:- কংগ্রেসের উদ্যোগে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে কৃষক আন্দোলনও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের উদ্যোগে বাংলার মেদিনীপুর, পাবনা, কুমিল্লা, রাজশাহি, বগুড়া, রংপুর, বীরভূম, দিনাজপুর, বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলায়, বিহারের ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, মুঙ্গের, দ্বারভাঙ্গা, মধুবনী প্রভৃতি জেলায়, যুক্তপ্রদেশের হরদৈ, বারাবাঁকি, সীতাপুর প্রভৃতি জেলায় কৃষক আন্দোলন চলে।
[ 2] একা আন্দোলন:- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের শেষ ও ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলে মাদারি পাশি ও বাবা গরিবদাসের নেতৃত্বে ‘একা’ নামে কৃষক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায়।
[ 3] বারদৌলি সত্যাগ্রহ:- জাতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি অঞ্চলে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে এক শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন গান্ধিবাদী কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেল।
[ 4] আইন অমান্য আন্দোলন:– কংগ্রেসের উদ্যোগে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য শুরু হলে কৃষক আন্দোলন আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। উত্তরপ্রদেশের আগ্রা, রায়বেরিলি, বারাবাঁকি, লখনউ, প্রতাপগড়, বাংলার মেদিনীপুর, শ্রীহট্ট, বিহারের বিভিন্ন স্থানে, গুজরাটের সুরাট, বারদৌলি, খেদা প্রভৃতি জেলায় কৃষক আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
[5] ভারত ছাড়ো আন্দোলন:- কংগ্রেসের নেতৃত্বে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হলে বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, সাঁওতাল পরগনা, বাংলার মেদিনীপুর, দিনাজপুর, গুজরাটের সুরাট, খান্দেশ, ব্রোচ, উড়িষ্যার তালচের প্রভৃতি জেলায় শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
উপসংহার:- সমগ্র বিশ শতক জুড়ে ভারতে সংগঠিত কৃষক আন্দোলনগুলি কংগ্রেসের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হয়। প্রাথমিক পর্বে কংগ্রেস কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করলেও পরবর্তীকালে তারা কৃষকদের স্বার্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ফলে কৃষকরা কংগ্রেসি রাজনীতির ঘনিষ্ঠ হয়।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর