ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত কীভাবে সংঘটিত হয়?

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাতের পদ্ধতি: উভয় গোলার্ধের 5°-20° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যবর্তী বিস্তৃত অঞ্চলে যে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত হয়, সেই বৃষ্টিপাত ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত। ক্রান্তীয় অঞ্চলের সাগর-মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশে বেশি সূর্যতাপের কারণে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ওই নিম্নচাপের দিকে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু ছুটে আসে। কেন্দ্রে বায়ুচাপ খুব কম থাকায় বায়ু

নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ না করে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে উঠে যায়। এইরকম ঊর্ধ্বগামী বায়ু যতই ওপরে ওঠে ততই প্রসারিত ও শীতল হয় এবং শেষে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিম্নচাপ যত গভীর হয় ততই বায়ুর গতি বাড়তে থাকে অর্থাৎ ঝড় সৃষ্টি হয়।। এই ঝড়ের কেন্দ্র বা চক্ষু একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলজুড়ে অবস্থান করে। এই অঞ্চলটি শান্ত থাকে, কিন্তু এর চারিদিকে বায়ু তীব্র গতিতে প্রবাহিত হয়ে ঝড়ের সৃষ্টি করে এবং মুশলধারে বৃষ্টিপাত ঘটায়।আবার বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনে দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত হয়। উয়-আর্দ্র মৌসুমি বায়ু শুষ্ক স্থলবায়ুর সংস্পর্শে এলে এই ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। এই ধরনের দুর্বল ঘূর্ণবাত থেকে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

উদাহরণ: 2009 সালের আয়লা, 2013 সালের ফাইলিন, 2019 সালের ফণী প্রভৃতি ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

Leave a Comment