পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

,

 পরিচালন, শৈলোখাক্ষেপ ও ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্য: পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল-

বিষয়পরিচলন বৃষ্টিপাতশৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত
ধারণাআর্দ্র বায়ু উয় ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এলে পরিচলন পদ্ধতিতে ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেই বৃষ্টিপাত পরিচলন বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের গায়ে প্রতিহত হয়ে পর্বতের গা বেয়ে ওপরে উঠে গিয়ে ক্রমশ শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেই বৃষ্টিপাত শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।নাতিশীতোয় অঞ্চলে উয় ও আর্দ্র বায়ু এবং শীতল বায়ুর সংঘর্ষে সীমান্তে অথবা ক্রান্তীয় অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান ঊর্ধ্বমুখী বায়ু ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত বলে।
অঞ্চলনিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর এবং ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে এই বৃষ্টিপাত হয়।যেসব অঞ্চলে পার্বত্যভূমি আছে, সেখানে এই বৃষ্টিপাত হয়।ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোয় অঞ্চলে এই বৃষ্টিপাত হয়।
উৎপত্তির কারণযেসব অঞ্চলে জলভাগ বেশি সেখানে বেশি পরিমাণে সৌরতাপ পাওয়া গেলে জলের বাষ্পীভবনও অধিক হয় এবং তা ঊর্ধ্বগামী হয়ে পরিচলন বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে।জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু তার প্রবাহপথে পর্বতশ্রেণি দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে এই বৃষ্টিপাত হয়।নাতিশীতোয় অঞ্চলে উয়-আর্দ্র এবং শীতল-এই দুই বিপরীতধর্মী ও পরস্পর অভিমুখী বায়ুর মধ্যে সংঘর্ষ এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের বিস্তৃত জলভাগে হঠাৎ গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়।
সময়কালপ্রায় প্রতিদিন বিকেলে এই বৃষ্টিপাত হয়।বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে, বিশেষত আর্দ্র ঋতুতে এই বৃষ্টিপাত হয়।নাতিশীতোয় অঞ্চলে শীতকালে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে শরৎকালে এই বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
বৃষ্টিপাতের ধরনকিছুক্ষণ মুশলধারে বৃষ্টিপাত হয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়।কখনও অল্প, আবার কখনও অনেকক্ষণ ধরে ভারী বৃষ্টি হয়, এমনকি একটানা এক-দুই দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।এই বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী এবং বেশিরভাগ সময় ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়, ভূমুর বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বয়।

Leave a Comment