ভারতের পূর্ব উপকূলভূমি এবং পশ্চিম উপকূলভূমির তুলনা: ভারতের পূর্ব উপকূলভূমি এবং পশ্চিম উপকূলভূমির মধ্যে প্রধান তুলনাগুলি হল-
| বিষয় | পূর্ব উপকূলভূমি | পশ্চিম উপকূলভূমি |
| অবস্থান ও প্রশস্ততা | বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন পূর্ব উপকূলভূমি বেশ প্রশস্ত (গড়ে 80-100 কিমি)। | আরব সাগরসংলগ্ন পশ্চিম উপকূলভূমি খুব সংকীর্ণ। গোয়াতে এই উপকূলভূমি 1 কিমি বা তারও কম বিস্তৃত এবং মালাবার উপকূল অঞ্চলে এটি সর্বোচ্চ ৪০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। |
| উচ্চতা | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই উপকূলভূমির উচ্চতা কম। | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই উপকূলভূমি অনেক উঁচু। |
| বালিয়াড়ি | পূর্ব উপকূলভূমির প্রায় সর্বত্রই বালিয়াড়ি আছে। | পশ্চিম উপকূলভূমির শুধু দক্ষিণাংশে বালিয়াড়ি আছে। |
| উপকূলের প্রকৃতি | দক্ষিণাংশ ছাড়া উপকূলরেখা অভগ্ন, এই জন্য বন্দরের সংখ্যা কম। | উপকূলরেখা প্রায় সর্বত্রই ভগ্ন বলে বন্দরের সংখ্যা বেশি। |
| প্রবাহিত নদীসমূহ | এই উপকূলভূমির ওপর দিয়ে মহানদী, গোদাবরী, কৃয়া, কাবেরী প্রভৃতি বড়ো বড়ো নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং নদীগুলির মোহানাও প্রশস্ত। | নেত্রাবতী, সরাবতী, পেরিয়ার প্রভৃতি ছোটো ছোটো নদী এই সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং নদীগুলির মোহানাও সংকীর্ণ। |
| বদ্বীপ | পূর্ব উপকূলভূমির নদীর মোহানাগুলিতে বড়ো বড়ো বদ্বীপ আছে। | পশ্চিম উপকূলভূমির নেত্রাবতী নদীর মোহানায় একটি ছোটো বদ্বীপ ছাড়া আর কোনো নদীর মোহানায় বদ্বীপ নেই। |
অন্যান্য তুলনা
| বিষয় | পূর্ব উপকূলভূমি | পশ্চিম উপকূলভূমি |
| হ্রদ ও উপহ্রদের উপস্থিতি | উপকূলের বিভিন্ন অংশে হ্রদ ও উপহ্রদ আছে। যেমন- চিলকা, কোলের, পুলিকট প্রভৃতি। | একমাত্র দক্ষিণাংশ ছাড়া উপকূলভূমির কোথাও হ্রদ বা উপহ্রদ নেই। যেমন-ভেমবানাদ, পোনমুদি, অষ্টমুদি প্রভৃতি। |
| মৃত্তিকার উর্বরতা ও কৃষিতে ভূমিকা | মৃত্তিকা উর্বর এবং উপকূলভূমির সর্বত্রই কৃষিতে সমৃদ্ধ। | মৃত্তিকা কম উর্বর (কোঙ্কন ও মালাবার ছাড়া), তাই কৃষিকাজও উন্নত নয়। |
| বৃষ্টিপাতের পরিমাণ | বৃষ্টিপাত মাঝারি ধরনের। | বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি। |
| শিল্পে ভূমিকা | পূর্ব উপকূলভূমি শিল্পে সমৃদ্ধ। | দু-একটি স্থান ছাড়া পশ্চিম উপকূলভূমিতে শিল্পের বিকাশ লক্ষণীয় নয়। |
| যোগাযোগ ব্যবস্থা | চওড়া উপকূলভূমির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। | সংকীর্ণ উপকূলভূমির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। |