1. অবস্থান ও পরিচয়: ① পশ্চিম উপকূল সমভূমি উত্তরে কচ্ছের রান অঞ্চল থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত। ② এর পূর্ব সীমায় আছে পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি এবং পশ্চিম সীমায় আরব সাগর। ③ পূর্ব উপকূলের সমভূমির তুলনায় এই সমভূমিটি বেশ সংকীর্ণ। ④ উত্তরে কচ্ছের রান অঞ্চল থেকে দক্ষিণে সমভূমিটি ক্রমশ সংকীর্ণ হয়েছে। ⑤ এখানে নদী গঠিত বদ্বীপ নেই বললেই চলে।
2.উপ-অঞ্চল ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: পশ্চিম উপকূলের সমভূমি অঞ্চলকে চারটি অংশে ভাগ করা যায়-
① গুজরাত উপকূলের সমভূমি: [i] পশ্চিম উপকূলের উত্তরাংশের নাম গুজরাত উপকূলের সমভূমি। [ii] অঞ্চলটি উত্তরে গুজরাত রাজ্যের কচ্ছ ও কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণে মহারাষ্ট্রের উত্তর সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। [iii] কচ্ছ উপদ্বীপে আছে এক বিস্তীর্ণ অগভীর লবণাক্ত জলাভূমি বা রান। এর উত্তরভাগের নাম বৃহৎ রান এবং দক্ষিণভাগের নাম ক্ষুদ্র রান। [iv] কাথিয়াবাড় উপদ্বীপটি যথেষ্ট প্রশস্ত ও মাঝখানটি উঁচু। ওই অংশে গিরনার ও গির নামে দুটি রেঞ্জ আছে। গিরনার পাহাড়ের গোরক্ষনাথ কাথিয়াবাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
② কোঙ্কন উপকূলের সমভূমি: [i] মহারাষ্ট্রের উত্তর সীমা অর্থাৎ সুরাতের কিছুটা দক্ষিণ থেকে গোয়া পর্যন্ত কোঙ্কন উপকূল সমভূমি বিস্তৃত। [ii] সমভূমিটি খুবই সংকীর্ণ এবং ভগ্ন। অধিকাংশ জায়গায় এই সমভূমি পাথর দ্বারা গঠিত। [iii] স্থানে স্থানে কাদাভরতি জলাভূমি, বালুকাময় তটভূমি, সামুদ্রিক চড়া এবং লাভা গঠিত পাহাড় প্রভৃতি কোঙ্কন উপকূলের সমভূমিকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তুলেছে।
③ কর্ণাটক উপকূলের সমভূমি: [i] উত্তরে গোয়া থেকে দক্ষিণে কর্ণাটকের দক্ষিণ সীমা পর্যন্ত কর্ণাটক বা কারওয়ার উপকূলের সমভূমি নামে পরিচিত। [ii] এর দৈর্ঘ্য প্রায় 225 কিমি। [iii] এই উপকূলও বেশ সংকীর্ণ, তবে ম্যাঙ্গালোরের পর থেকে অংশটি কিছুটা চওড়া। [iv] উপকূলের স্থানে স্থানে বালুকাময় তটভূমি আছে। কোনো কোনো স্থানে আবার পশ্চিমঘাট পর্বতমালা সমুদ্রের তীর পর্যন্ত নেমে এসেছে। [v] ম্যাঙ্গালোরের কাছে নেত্রাবতী নদীর মোহানায় এই উপকূলের একমাত্র বদ্বীপ দেখতে পাওয়া যায়। [vi] সমভূমির পূর্ব প্রান্তে আছে সরাবতী নদীর বিখ্যাত গেরসোপ্পা জলপ্রপাত। [vii] স্থানে স্থানে ছোটো ছোটো বালিয়াড়ি, কাদাগঠিত নিম্নসমভূমি, ছোটো ছোটো উপহ্রদ, সংকীর্ণ নদী উপত্যকা এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের পাদদেশবর্তী ল্যাটেরাইট গঠিত নিম্ন মালভূমি হল কর্ণাটক উপকূলের উল্লেখযোগ্য ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
④ মালাবার উপকূলের সমভূমি: [i] কেরালা রাজ্যের উপকূলের নাম মালাবার উপকূল। [ii] কোঙ্কন ও কর্ণাটক উপকূলের তুলনায় এই উপকূল বেশ চওড়া, গড়ে 25 কিমি। [iii] এখানকার উপকূলভূমিতে অনেক বালিয়াড়ি, জলাভূমি, হ্রদ ও উপহ্রদ বা লেগুন আছে। উপকূলের নিস্তরঙ্গ লবণাক্ত জলাভূমি ব্যাকওয়াটার্স নামে পরিচিত। স্থানীয় অধিবাসীরা উপহ্রদগুলিকে কয়াল এবং বালিয়াড়িগুলিকে থেরিস বলে। কয়ালগুলির মধ্যে কোচিনের কাছে অবস্থিত ভেমবানাদ কয়াল (বৃহত্তম) ও কোল্লামের কাছে অবস্থিত অষ্টমুদি কয়াল খুব বিখ্যাত।
