পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি বলতে কী বোঝ? এই উচ্চভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি: ঝাড়খন্ড রাজ্যের ছোটোনাগপুর মালভূমি, ছত্তিশগড় রাজ্যের বাঘেলখণ্ড মালভূমি ও সমতলক্ষেত্র-সহ মহানদী অববাহিকা, ওডিশার দণ্ডকারণ্য অঞ্চল প্রভৃতিকে একসঙ্গে বলা হয় পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি।

তৃষ্ণাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

1.ছোটোনাগপুর মালভূমি: ছোটোনাগপুর মালভূমির সর্বাপেক্ষা উঁচু অংশ পশ্চিমের পাট অঞ্চল (গড় উচ্চতা 1000 মিটারের বেশি)। বিখ্যাত রাঁচি মালভূমি পাট অঞ্চলের পূর্ব দিকে অবস্থিত। রাঁচি মালভূমির উত্তর দিক দিয়ে দামোদর নদ প্রবাহিত হয়েছে। এই নদের উত্তরে আছে হাজারিবাগ মালভূমি। ছোটোনাগপুরের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পরেশনাথ (1366 মি) এখানেই অবস্থিত। ছোটোনাগপুর মালভূমির উত্তর-পূর্ব দিকে আছে ব্যাসল্ট শিলা গঠিত রাজমহল পাহাড়। এখানকার দলমা ও পোরহাট পাহাড়ও ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত।

2. বাঘেলখণ্ড মালভূমি: প্রাচীন পাললিক ও গ্র্যানাইট শিলা দ্বারা গঠিত শোন নদীর দক্ষিণে অবস্থিত পূর্ব ভারতের উচ্চভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশটির নাম হল বাঘেলখণ্ড। বহু যুগ ধরে ক্ষয় হওয়ার ফলে এখানকার উচ্চতা বেশ কমে গেছে (গড়ে 700 মি উঁচু)। এই অংশে অনেক সমপ্রায়ভূমি (peneplain) দেখা যায়।

3.মহানদী অববাহিকা: বাঘেলখণ্ড মালভূমির দক্ষিণে আছে মহানদী অববাহিকা। এর মধ্যভাগের নাম ছত্তিশগড় সমতলক্ষেত্র।

4. দণ্ডকারণ্য: এই সমতলক্ষেত্রের দক্ষিণে বন্ধুর ও ব্যবচ্ছিন্ন দণ্ডকারণ্য পাহাড়িয়া অঞ্চল অবস্থিত। এই মালভূমির সর্বোচ্চ অংশ হল কোরাপুট।

5. গড়জাত অঞ্চল: রাঁচি মালভূমির দক্ষিণে ওডিশার গড়জাত (400-1000 মি) অঞ্চল অবস্থিত। এখানে কতকগুলি পাহাড় আছে, যেমন-বোনাই, কেওনঝড়, সিমলিপাল প্রভৃতি।

Leave a Comment