দাক্ষিণাত্য মালভূমির অবস্থান: উপদ্বীপীয় মালভূমির মূল ভূখণ্ডটির নাম দাক্ষিণাত্য মালভূমি। উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত, দক্ষিণে কন্যাকুমারী, পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা বা মলয়াদ্রি এবং পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রির মধ্যবর্তী অংশে দাক্ষিণাত্য মালভূমি বিস্তৃত। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও তামিলনাড় রাজ্যের মালভূমি এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
দাক্ষিণাত্য মালভূমির ভূথাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: 1. এই অঞ্চলটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূভাগ বা শিল্ড (shield) মালভূমির অংশ। 2. অঞ্চলটি প্রাচীন গ্র্যানাইট, নিস প্রভৃতি আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত। 3. কোটি কোটি বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে দাক্ষিণাত্য মালভূমির অনেক অংশ সমপ্রায়ভূমি এবং তারমধ্যে কোথাও কোথাও ব্যবচ্ছিন্ন মেসা (mesa) ও বিউট (butte) ভূমিরূপে পরিণত হয়েছে। 4. সমগ্র মালভূমি পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু এবং উত্তরাংশের তুলনায় দক্ষিণাংশ ক্রমশ উঁচু। 5. মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে লাভা গঠিত ডেকান ট্র্যাপ (Deccan Trap) অঞ্চল দেখা যায়। ‘ট্র্যাপ’ (trap) শব্দটির অর্থ ‘সিঁড়ি’। মহারাষ্ট্র মালভূমি নামে পরিচিত এই লাভা মালভূমির শীর্ষদেশ চ্যাপটা এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে সিঁড়ির মত ধাপে ধাপে নেমে গেছে। 6. ডেকান ট্র্যাপের দক্ষিণে কর্ণাটক মালভূমি রয়েছে। এই মালভূমির পূর্বাংশ বেশ সমতল এবং উন্মুক্ত। এর নাম ময়দান। কিন্তু কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমাংশ খুবই উঁচুনীচু এবং ঢেউখেলানো, বন্ধুর। এর নাম মালনাদ। 7. ত্রিভুজাকৃতি দাক্ষিণাত্য মালভূমির তিনদিক পর্বতবেষ্টিত। এগুলির মধ্যে উত্তরে আছে সাতপুরা-মহাদেব-মহাকাল-অজন্তা পর্বতশ্রেণি, পশ্চিমে আছে পশ্চিমঘাট বা সহ্যাদ্রি পর্বতমালা এবং পূর্বে আছে পূর্বঘাট বা মলয়াদ্রি পর্বতমালা। ৪. পশ্চিমঘাট পর্বতমালার দক্ষিণ প্রান্তের নাম আনাইমালাই পর্বত। এই পর্বতের আনামুদি বা আনাইমুদি (2695 মি) দাক্ষিণাত্য মালভূমির উচ্চতম শৃঙ্গ।
