উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পটিতে মানুষের আদিম বিশ্বাস এবং অন্ধসংস্কারের যে সর্বব্যাপ্ত চেহারাকে তুলে ধরা হয়েছে কুঞ্জ সেই ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করেছে।
অন্ধবিশ্বাসের ভরকেন্দ্র: নবীনের স্ত্রী দামিনী অসুস্থ হলে বৃদ্ধ পঙ্কজ ঘোষাল ডাক্তার ডাকার বদলে কুঞ্জকে ডাকার পরামর্শ দেন। সেখানে উপস্থিত গ্রামের সকলেই তাতে সম্মতি দেয়। ধীরেন তাঁর আপত্তি করলেও কুঞ্জ উত্তর দেয়-” এসব খাপছাড়া অসুখে ওদের চিকিৎসাই ভালো ফল দেয়।” বোঝা যায় নিজেদের অন্ধবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশে কুণ্ডুকে আশ্রয় করতে চেয়েছে সকলে।
পেশাগত তৎপরতা: কুঞ্জর পেশাগত তৎপরতা স্পষ্ট করে দেয় যে কেন তার প্রতি মানুষের আস্থা। দামিনীকে দেখেই কুঞ্জ বলেছিল যে ভরসন্ধ্যায় তাকে অশরীরী ভর করেছে। সেই সঙ্গেই অশরীরীকে প্রায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কুক্ত বলে যে, তাকে ছেড়ে যেতেই হবে, “কুণ্ড মাঝির সাথে তো চালাকি চলবে না।
” কুঞ্জর মন্ত্র পড়া, দামিনীর চুল খুঁটির সঙ্গে বাঁধা, নাকে হলুদ পোড়া শোঁকানো ইত্যাদির মধ্য দিয়ে কুণ্ডু গ্রামসমাজে অন্ধ-সংস্কারের বহমানতার অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠে এবং তার প্রভাবেই দামিনীর মুখ দিয়ে অশরীরী শুভ্রা নিজের উপস্থিতির স্বীকারোক্তি করে, সলে এটাও জানিয়ে দেয় যে, বলাই চক্রবর্তী তাকে খুন করেছে। একইভাবে পরে ধীরেনও জানিয়ে দেয় যে সে বলাই চক্রবর্তী এবা সে-ই শুভ্রাকে খুন করেছে।
উপসংহার: কৈলাস ডাক্বার নবীনের বাড়িতে কুসংস্কারের প্রতীক কুণ্ডকে গালাগালি দিয়েছে, তার আগুনের মালসা লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের কুঞ্জর প্রতি আস্থাকে টলাতে পারেনি। এবং কাহিনির শেষে ধীরেন যখন নিজেকে বলাই চক্রবর্তী বলে আর সেখানেও হলুদ পোড়া শোঁকায় কুঞ্জ, তখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায় গণমানসের অন্ধকারের পুরোহিত কুঞ্জ। তার সমালোচনায় যেমন অনিবার্য, উপস্থিতি তেমনই অনস্বীকার্য।