উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে দামিনী একমাত্র যে জবাব দিয়েছিল তা হল সে চাটুজ্যে বাড়ির শুভ্রা, এবং বলাই চক্রবর্তী তাকে খুন করেছে।
বাতাস লেগে আকস্মিকভাবে নবীনের স্ত্রী দামিনী অসুস্থ হয়ে পড়লে কুঞ্জ গুনিনকে ডেকে আনা হয় তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য। কুঞ্জ প্রথম দর্শনেই দামিনীর মধ্যে অশরীরী আত্মার অনুপ্রবেশ লক্ষ করে। অতঃপর বারান্দা থেকে সকলকে নামিয়ে সেখানে জল ছিটিয়ে মন্ত্র পড়তে পড়তে দামিনীর এলোচুল দাওয়ার একটা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর নানাদিকে ঘুরে ঘুরে কুক্ত দুর্বোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকে এবং মালসাতে আগুন করে তাতে শুকনো পাতা আর শিকড় পোড়াতে থাকে। চামড়ার মতো উৎকট গন্ধে চারপাশ ভরে যায়। ধীরে ধীরে দামিনীর আর্তনাদ এবং ছটফটানি কমে আসে। খুঁটিতে পিঠ ঠেকিয়ে কাঠের মতো সোজা দাঁড়িয়ে সে অর্ধ-উন্মীলিত চোখে কুঞ্জর দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা কাঁচা হলুদ পুড়িয়ে কুও তার নাকের কাছে ধরে। দামিনীর প্রায় বুজে আসা চোখ বিস্ফারিত হয়ে ওঠে। কুণ্ড অশরীরীর কাছে জানতে চায় তার পরিচয়। উত্তর আসে যে সে খুন হয়ে যাওয়া শুভ্রা। পঙ্কজ ঘোষাল কুণ্ডুকে প্রশ্ন করতে বলেন যে কে তাকে খুন করেছে। কিন্তু সেই প্রশ্ন করার আগেই দামিনী উত্তর দেয় যে বলাই চক্রবর্তী তাকে খুন করেছে। নানাভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেকবার প্রশ্ন করার পরেও অন্য কোনো উত্তর তার কাছ থেকে পাওয়া যায় না। তারপরে একসময় তার কথা বন্ধ হয়ে যায়, নাকে হলুদ পোড়া ধরেও তাকে আর কথা বলানো যায় না।