“ব্যাখাটা দেওয়া উচিত ছিল কুন্তু গুণীর।” কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? কুহু কী কথা বলেছিল?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে কুঞ্জ গুনিনের তন্ত্রমন্ত্রের প্রয়োগে দামিনী স্বীকার করে যে সে শুভ্রা, অর্থাৎ খুন হয়ে যাওয়া শুভ্রা চক্রবর্তীর অশরীরী আত্মা ভর করেছে দামিনীকে। এবং আরেক খুন হয়ে যাওয়া চরিত্র বলাই চক্রবর্তী তাকে খুন করেছে। কাছাকাছি সময়ে দুটি খুন হওয়ায় গ্রামের লোকেরা দুটি খুনের সম্পর্ক আবিষ্কারে ব্যগ্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাটি ছিল বলাই চক্রবর্তীর মৃত্যু ঘটেছিল শুভ্রা মারা যাওয়ার তিন দিন আগে। এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিল প্রবীণ পঙ্কজ ঘোষাল। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, জ্যান্ত মানুষই শুধু মানুষের গলা টিপে মারে না, শ্মশানে-মশানে বিশেষ তিথি-নক্ষত্রে ‘পথভোলা পথিক’-দের ঘাড় মটকে দেয়। অর্থাৎ বলাই চক্রবর্তীর আগে মৃত্যু ঘটলেও তার দ্বারা যে শুভ্রাকে হত্যা করা সম্ভব সেটাই পঙ্কজ বোঝাতে চায়। এই প্রসঙ্গেই মন্তব্যটি করা হয়েছে।

পঙ্কজ ঘোষাল যেভাবে শুভ্রার মৃত্যুর সঙ্গে বলাই চক্রবর্তীর যোগসূত্র তৈরি করেছিল, লেখকের ভাষ্যে তা আসলে করার কথা ছিল কুণ্ডু গুনিনের। কারণ অশরীরী আত্মার দামিনীর উপরে ভর করার ধারণা সেই দিয়েছিল। এখন পঙ্কজ ঘোষালের বক্তব্যকে

সমর্থন করা ছাড়া নিজের মর্যাদা বাঁচানোর জন্য তার অন্য কোনে উপায় ছিল না। কিন্তু কথাটাকে সে বলল একটু অন্যভাবে। সে বলল যে, বলাই চক্রবর্তী শুভ্রাকে খুন করেছে কিন্তু সোজাসুজি নিজে নয়। কারণ মরার একবছরের মধ্যে সেটা কেউ করতে পারে না। ওই সময়ের মধ্যে শ্রাদ্ধশান্তি না হলে একমাত্র তখনই সরাসরি যে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। কুঞ্জর মতে বলাই চক্রবর্তী একজনকে ভর করে তার মধ্যস্থতায় শুভ্রাকে খুন করেছে সেই ব্যক্তির রক্তমাংসের হাত দিয়ে।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment