ভারতের উপকূল সমভূমিকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়? যে-কোনো একটি বিভাগের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

ভারতের উপকূল সমভূমির বিভাগ: অবস্থানের পার্থক্য অনুসারে ভারতের উপকূল সমভূমিকে দুটি অংশে ভাগ করা যায়- 1. পূর্ব উপকূলের সমভূমি এবং 2. পশ্চিম উপকূলের সমভূমি।

পূর্ব উপকূলের সমভূমির ভূপ্রকৃতি

1. অবস্থান ও বিস্তার: উত্তরে সুবর্ণরেখা নদীর মোহানা থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের সমভূমি বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় 1500 কিমি এবং বিস্তার গড়ে 100 কিমি।

2. বৈশিষ্ট্য: [1] এই সমভূমিটি প্রশস্ত। মহানদী, গোদাবরী, কৃয়া ও কাবেরীর বদ্বীপসমূহ এই সমভূমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ স্থান গঠন করেছে।[2] পূর্ব উপকূলের সমভূমিতে বালিয়াড়ি, লেগুন বা উপহ্রদ ও জলাভূমি দেখা যায়। বালিয়াড়িগুলি সাধারণভাবে 1-4 কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এবং 60-65 মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।[3] পূর্ব উপকূলের সমভূমিতে দীর্ঘ পুরোদেশীয় বাঁধ ও স্পিট দেখা যায়। এর পিছনে থাকে উপহ্রদ। এগুলি সমুদ্রের সঙ্গে সংকীর্ণ যোজক দ্বারা যুক্ত থাকে।যেমন-ওডিশা উপকূলের চিলকা, অন্ধ্র উপকূলের কোলেরু এবং পুলিকট হ্রদ।[4] পূর্ব উপকূলে কয়েকটি উচ্চভূমি বা টিলাও দেখা যায়।

উপবিভাগ:পূর্ব উপকূলকে দুটি উপবিভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

1. উত্তর সরকার উপকূল: পূর্ব উপকূলের উত্তরাংশে মোটামুটিভাবে সুবর্ণরেখা নদীর মোহানা থেকে কৃয়া নদীর মোহানা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশটি হল উত্তর সরকার উপকূল। এর মধ্যে আবার ওডিশা রাজ্যের উপকূলীয় অংশটিকে উৎকল উপকূল এবং অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের অংশটি হল অন্ধ্র উপকূল।

2. করমণ্ডল উপকূল: পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ দিকে কৃষ্ণা নদীর মোহানা থেকে শুরু করে একেবারে কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রসারিত অংশটি হল করমণ্ডল উপকূল। এর অপর নাম তামিলনাড়ু উপকূল।

Leave a Comment