সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের যোগদানের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

 সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের যোগদান:-

ভূমিকা:- বিংশ শতকে ব্রিটিশ-বিরোধী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও জাতীয় আন্দোলনের ব্যর্থতার ফলে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলা ছিল এই বিপ্লবী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। এই আন্দোলনে বাংলার বহু নারীও যোগ দান করেন।

[1] সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত:- বাংলার বহু নারী অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর দল প্রভৃতি সশস্ত্র গুপ্তসমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। প্রকাশ্য সমিতি দীপালি সংঘের সদস্য হয়েও বহু নারী গোপনে বিপ্লবী কার্যকলাপ পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেন।

[2] সমর্থন ও সহায়তা দান:- বাংলার বহু তরুণী বিপ্লবী দলগুলির সংস্পর্শে এলে তাঁদের মা, মাসিমা, কাকিমা প্রমুখও নানা বৈপ্লবিক কাজকর্মে তাদের সাহায্য করেন। তাঁরা বাড়িতে বিপ্লবীদের গোপনে আশ্রয় দিয়ে বা বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখার সুযোগ করে দিয়ে বিপ্লবীদের সহায়তা করেন।

[3 ] আর্থিক সহায়তাদান:- বিপ্লবীরা যখন দেশমাতার মুক্তির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন তখন বহু নারী নিজেদের টাকা-পয়সা, সোনার গয়না প্রভৃতি দিয়ে বৈপ্লবিক কাজে সহায়তা করেন।

[4] সর্বস্তরের নারীদের যোগদান:- বিশ শতকে বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের নারীরা অংশগ্রহণ করেন। বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথমদিকে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলাদেবী, আশালতা সেন, সরোজিনী নাইডু, ননীবালা, দু’কড়িবালা দেবী, ইন্দুমতী দেবী প্রমুখ নারী নানান বৈপ্লবিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে লীলা নাগ (রায়), প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, বীণা দাস প্রমুখ বিপ্লবী চরম আত্মোৎসর্গের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উপসংহার:- বাংলার নারীরা ব্রিটিশ-বিরোধী বৈপ্লবিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দু-ভাবেই অংশগ্রহণ করেছে। প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন নারী বৈপ্লবিক কার্যকলাপে যেরকম দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছে তার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment