ওজোনস্তরের বিনাশের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর ওজোনস্তরের বিনাশের কারণ:ওজোনস্তরের বিনাশ বা ধ্বংসের কারণকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

1. প্রাকৃতিক কারণ: ওজোনস্তর বিনাশের প্রাকৃতিক কারণগুলি হল-

① অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া: সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ওজোন অণু ভেঙে অক্সিজেন অণু ও পরমাণু সৃষ্টি হয়। এইভাবে ওজোনস্তর ক্রমশ পাতলা হলে, তাকে ওজোন হ্রাস বলে।

② সূর্যরশ্মির পরিমাণ বৃদ্ধি: প্রতি 10/11 বছর অন্তর সূর্যরশ্মির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ওই সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন নাইট্রাস অক্সাইডে পরিণত হয়, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওজোনস্তরকে ক্ষয় করে।

③ অন্যান্য: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বস্তরে মেরু অঞ্চল থেকে উপমেরু অঞ্চলের দিকে বায়ুর সঞ্চলন প্রভৃতি কারণেও ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

2.মনুষ্যসৃষ্ট কারণ: মানুষের বিভিন্ন প্রকার ক্রিয়াকলাপের ফলে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হ্যালন, সালফেট, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাস সৃষ্টি হয় এবং এগুলি ওজোনস্তরের বিনাশ ঘটায়, যেমন-

① ক্লোরোফ্লরোকার্বন যৌগের প্রভাব: এই গ্যাসই ওজোন ধ্বংসের মূল উৎস। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC গ্যাসের যৌগ ভেঙে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু তৈরি হয় এবং ওগুলিই ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন গ্যাসকে ধ্বংস করে। ফে ওজোনস্তরের ক্ষতি হয়।

② হ্যালন যৌগের প্রভাব: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হ্যালন-1211 এ হ্যালন-1301-কে ভেঙে ফেলে ব্রোমিন পরমাণুকে মুক্ত করে এজন্য ওজোনস্তর ধ্বংস হয়।

③ সালফেট যৌগের প্রভাব: কারখানার চিমনি থেকে যেসব কালে ধোঁয়া বের হয় তার মধ্যে প্রচুর সালফার ডাইঅক্সাইড। আছে। এর সূর্যরশ্মির প্রভাবে সালফেট যৌগ তৈরি করে ও ওজোনস্তরের ক্ষ: ঘটায়।

④ বিমান চলাচলের জন্য: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্য দিয়ে চলাচলকার জেট বিমান থেকে নির্গত নাইট্রোজেন মনোক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড ওজোনস্তরকে ক্ষয় করে।

Leave a Comment