মৌসুমি বায়ুর সাথে জেট বায়ুর সম্পর্ক কীরূপ? অথবা, জেট বায়ুর সঙ্গে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর সম্পর্ক উল্লেখ করো। অথবা, মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেট বায়ুর সম্পর্ক আলোচনা করো।

উত্তর মৌসুমি বায়ুর সাথে জেট বায়ুর সম্পর্ক: জেট বায়ু ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চ অংশ (9-12 কিমি) দিয়ে আঁকাবাঁকা বা সর্পিলাকার পথে প্রবাহিত অত্যন্ত দ্রুতগামী একটি উচ্চমণ্ডলীয় বায়ুপ্রবাহ। অন্যদিকে  মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর প্রভাববিস্তারকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক বায়ুপ্রবাহ। আবহবিদদের মতে এই মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেট বায়ুর নিবিড় একটি সম্পর্ক আছে।

1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও জেট বায়ুর সম্পর্ক: ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের ওপর দুই প্রকার জেট বায়ুর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। যথা-① ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু এবং ② উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু।

ভারতীয় উপমহাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রবল দাবদাহের ফলে যখন একটি নিম্নচাপ অক্ষ তৈরি হয় সেইসময় মোটামুটি জুন মাস নাগাদ 12° থেকে 15° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর একটি পুবালি জেট বায়ুর আগমন ঘটে যা প্রায় আগস্ট মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই পুবালি জেটের গতিবেগ মাত্র 100-200 কিমি/ঘণ্টা হয়। ঠিক একই সময়ে হিমালয় পর্বতের উত্তর দিক দিয়ে একটি শক্তিশালী উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু তিব্বত মালভূমির ওপর দিয়ে চিনসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়। অথচ এই উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু অন্যসময়ে হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে থাকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর পুবালি জেট বায়ুর আগমন এবং উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ুর হিমালয়ের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাওয়া এই দুই ঘটনাবলি মৌসুমি বায়ুকে আহ্বান করে থাকে। পুবালি জেটের আগমন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ভারতে প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে এবং মৌসুমি বিস্ফোরণ ঘটাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু হিমালয়ের উত্তরে সরে গিয়ে সমগ্র ভারতে মৌসুমি বায়ুর আধিপত্য কায়েম করার পথ প্রস্তুত করে দেয়। দেখা গেছে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট দেরি করে হিমালয়ের উত্তর দিকে গেলে ভারতে মৌসুমি বায়ু থমকে যায়।

2 . উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ও জেট বায়ুর সম্পর্ক: উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন এবং স্থায়িত্ব পুরোপুরিভাবে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতে মোটামুটিভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাস নাগাদ উপক্রান্তীয় জেট বায়ু পশ্চিম দিকে দিল্লি থেকে পূর্বদিকে গুয়াহাটি পর্যন্ত এলাকাজুড়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নেয়। আর এর ঠিক সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু হিসেবে ফিরে যায় এবং তার স্থানে

উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করে। ওই উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ুর সক্রিয়তার কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়  যা উত্তর-পশ্চিম ভারতে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হিসেবে প্রবেশ করে। দেখা গেছে উপক্রান্তীয় জেট বায়ু ভারতীয় ভূখণ্ডে মোটামুটিভাবে মার্চ-এপ্রিল ২০১ পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, তারপর দুর্বল হতে থাকে। মে মাসের পশু এটি দুর্বল হয়ে পুনরায় হিমালয় অতিক্রম করে উত্তর পার্শ্বে চলে যায়। এভাবে দেখা যায় ভারতে বিশেষত মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট। গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।

Leave a Comment