কিষান সভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য:-
ভূমিকা:- কংগ্রেসের বামপন্থী অংশ, কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল ও কমিউনিস্টরা ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সারাভারত কিষান কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে কিষান সভা তার একটি ইস্তাহার প্রকাশ করে কৃষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে। এই ইস্তাহার থেকে কিষান সভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যায়।।
[1] জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ:- জমিদারি প্রথা ছিল কৃষকদের দুর্দশার অন্যতম কারণ। তাই কিষান সভা জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের দাবি
[2] কৃষিঋণ মকুব:- কৃষকরা ঋণ নিয়ে অনন্তকাল ঋণের জালে জড়িয়ে থাকত। কিষান সভা এই ঋণ মকুবের দাবি জানায়।
[3] বেগার প্রথার অবসান:- জমিদারের জমিতে কৃষকদের যে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হত বা বেগার শ্রম দিতে হত, কিষান সন্তা এই প্রথার অবসানের দাবি করে।
[4] খাজনা হ্রাস:- কৃষকদের খাজনার হার অন্তত ৫০ শতাংশ হ্রাস করার জন্য কিষান সভা দাবি জানায়।
[ 5] বনজ-সম্পদে অধিকার:- ইতিপূর্বে ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন পাস করে ভারতীয়দের অরণ্যের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। প্রকৃতির বনজ-সম্পদ আহরণে কৃষকদের অধিকার দানের জন্য কৃষকসভা দাবি জানায়।
[ 5] জমি প্রদান:- সরকারের অনাবাদী জমি এবং জমিদারের খাস জমি কৃষকদের হাতে প্রদানের জন্য কিষান সভা দাবি করে।
উপসংহার:- কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদের দাবিদাওয়া আদায় এবং তাদের এতি অন্যায়ের প্রতিকারের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা কিষান সভা স্বাধীনতার এক্কালে ব্রিটিশ-বিরোধী গণ আন্দোলনগুলিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। ফলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ফলবতী হয়।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর