ছোটোগল্প হিসেবে ‘হলুদ পোড়া’ গল্পটি কতদূর সার্থক তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ ছোটোগল্পটি তার আয়তনে আপাতভাবে ছোটোগল্পের প্রত্যাশিত সংক্ষিপ্ততার শর্তকে কিছুটা হলেও অতিক্রম করেছে। কিন্তু তার সূচনা ছোটোগল্পের প্রত্যাশিত আকস্মিকতা দিয়ে। “সে বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি তিন দিন আগে পরে গাঁয়ে দু’দুটো খুন হয়ে গেল।

” এই ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমেই পাঠক চমকে ওঠে। কাহিনির সমাপ্তিতেও থাকে একই রকম আকস্মিকতা। ধীরেন বলে, “আমি বলাই চক্রবর্তী। শুভ্রাকে আমি খুন করেছি।” ধীরেন চরিত্রের পূর্ব অভিজ্ঞতার নিরিখে এই স্বীকারোক্তি প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু পাঠক যখন এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে তখনই কাহিনি শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া, ঘটনাক্রম এই সমস্ত কিছুর জন্য উৎকণ্ঠা জারি রেখে গল্পের সমাপ্তি ঘটে।

ছোটোগল্পে চরিত্র সংখ্যা কম থাকে। ‘হলুদ পোড়া’ গল্পেও দেখা যায় মূল চরিত্র মূলত ধীরেন, কুক্ত, এবং কিছুটা নবীন, দামিনী, কিংবা কুস্তুর স্ত্রী শান্তি। বিচ্ছিন্নভাবে আরও কিছু চরিত্র থাকলেও তাদের উপস্থিতি অত্যন্ত ক্ষণ পরিসরে।

তবে ‘হলুদ পোড়া’ গল্পের মূল স্বাতন্ত্র্য তার কাহিনি বিন্যাসে। যেভাবে একটা আপাত ভৌতিক গল্পের কাঠামো নির্মাণ করে এবং সম্ভব-অসম্ভবের সীমারেখা মুছে দিয়ে দুটি চরিত্রের অতিপ্রাকৃত রূপান্তর ঘটিয়েছেন লেখক, সেখানে নিশ্চয়ই আপাত ভৌতিক গল্পের কাঠামোর মধ্য দিয়ে সমাজ মনস্তত্বের তীব্রতম প্রকাশ ঘটেছে। গ্রামের মানুষদের আকাঙ্ক্ষা, তাদের প্রত্যাশা, কুসংস্কারকেন্দ্রিক সমাজের বিনির্মাণ সেখানে লক্ষ করা যায়।

বিজ্ঞানমনস্ক ধীরেনের অতিপ্রাকৃত রূপান্তর কিংবা কৈলাস ডাব্বারের প্রচেষ্টার শেষ পর্যন্ত কুন্তু গুনির কাছে হেরে যাওয়া আসলে একটা গোটা সমাজের মানসিকতারই প্রতিফলন। লেখক এখানে কোনো লোকশিক্ষার দায়িত্ব নেননি, শুধু সমাজমনস্তত্বের রূপদান করায় তার লক্ষ্য ছিল এবং সেই উদ্দেশ্যে ‘হলুদ পোড়া’ ছোটোগল্প হিসেবে নিশ্চয়ই সার্থক হয়েছে।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment