গাঙ্গেয় সমভূমির অবস্থান: পশ্চিমে যমুনা নদী, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গঙ্গার মোহানা, উত্তরে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণে মধ্য ও পূর্বভারতের উচ্চভূমির মধ্যবর্তী বিশাল সমতল অঞ্চলটির নাম গাঙ্গেয় সমভূমি। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বিস্তৃত এই সমভূমির মোট আয়তন প্রায় 3 লক্ষ 75 হাজার বর্গকিমি।
গাঙ্গেয় সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: এই সমভূমি অঞ্চলটিকে নানা ভৌগোলিক ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য অনুসারে তিনটি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা যায়-
1. উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল:[1] অঞ্চলটি পশ্চিমে যমুনা নদী থেকে পূর্বে প্রয়াগরাজ পর্যন্ত প্রসারিত। [2] পশ্চিমে অঞ্চলটির গড় উচ্চতা 220 মি এবং পূর্বে 100 মি। [3]অঞ্চলটি উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ঢালু। উত্তরাংশে সংকীর্ণ ভাবর ও তরাইভূমি দেখা যায়। [4]এই অঞ্চলের প্রাচীন পলি দ্বারা গঠিত মৃত্তিকা ভাঙ্গার নামে ও নবীন পলি দ্বারা গঠিত মৃত্তিকা খাদার নামে পরিচিত।

2. মধ্য গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল: [1] অঞ্চলটি প্রয়াগরাজ থেকে পূর্বদিকে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সীমা পর্যন্ত প্রসারিত। এই অঞ্চলটির পূর্বাংশ বিহার রাজ্যে এবং পশ্চিমাংশ উত্তরপ্রদেশের মধ্যে অবস্থিত। [2] পূর্বদিকে এর উচ্চতা ক্রমহ্রাসমান (প্রায় 35 মি)। [3] প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ প্রভৃতি এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য।[4] অঞ্চলটির দক্ষিণ-পূর্ব সীমায় আছে রাজমহল পাহাড়। [5] শিবালিকের পাদদেশে প্রস্তরময়, নুড়ি ও বালিপূর্ণ ভূমিভাগ ভাবর নামে পরিচিত। [6]ভাবরের দক্ষিণে জঙ্গলময়, জলাকীর্ণ, অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম পলি ও বালি দ্বারা গঠিত অঞ্চলকে তরাই বলা হয়।
3. নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল: ① ভারতে এই অংশটি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সীমা থেকে বঙ্গোপসাগরে হুগলি নদীর মোহানা পর্যন্ত বিস্তৃত। ② এই অংশটিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়- [i] উত্তরবঙ্গের সমভূমি (হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন গঙ্গা-পদ্মার উপনদীগুলি দ্বারা গঠিত), [ii] রাঢ় সমভূমি (ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে উৎপন্ন গঙ্গার উপনদীগুলি দ্বারা গঠিত) এবং [iii] বদ্বীপ সমভূমি (গঙ্গা-পদ্মা এবং এদের উপনদী ও শাখানদীগুলি দ্বারা গঠিত)। এর তিনটি অংশ হল-[a] মৃতপ্রায় বদ্বীপ, [b] পরিণত বদ্বীপ ও [c] সক্রিয় বদ্বীপ।