চিত্র-সহ হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির কারণ আলোচনা করো।

হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির কারণ হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তি বা সৃষ্টির কারণ দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়-

1. মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন তত্ত্ব অনুসারে এবং 2. পাত-গাঠনিক বা প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব অনুসারে।

1. মহীখাত তত্ত্ব: ① এখন যেখানে হিমালয়ের অবস্থান, প্রায় 6.5 থেকে 7 কোটি বছর আগে সেখানে একটি অগভীর সাগর বা মহীখাত

(geosyncline) ছিল, যার নাম টেথিস সাগর বা টেছি জিওসিনক্লাইন। ② টেথিস সাগরের উত্তরে আঙ্গারাল্যান্ড এবং দক্ষিণ গন্ডোয়ানাল্যান্ড নামে দুটি প্রাচীন ভুভাগ ছিল। ③ এই ভাভাগ মুটিয়ে প্রবাহিত অসংখ্য নদনদী-বাহিত পলি দ্বারা টেথিস সাগর ক্রমশ ভরা হয়ে যায়। ④ টার্শিয়ারি যুগে ভূ-আন্দোলনের ফলে ওই ভূভাগ দুটি পরস্পরের কাছাকাছি আসতে থাকলে টেথিস সাগরে সঞ্চিত প্রস্তরীভৎ পাললিক শিলাস্তরে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে। এর ফলে ওই শিলাজা ভাঁজের সৃষ্টি হয় ও তা ধীরে ধীরে ওপরে উঠে পৃথিবীর সর্বেস পর্বতমালা হিমালয়ের সৃষ্টি করে।

2. পাত-গাঠনিক তত্ত্ব:পর্বত গঠন সম্পর্কিত সর্বাধুনিক এই তা অনুসারে ভূত্বক কতকগুলি চলমান পাত বা প্লেটের সমন্বয়ে (7টি প্রদান ও 20টি অপ্রধান) গঠিত। এগুলির মধ্যে ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত এ ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলেই হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে। ② পরস্পরের দিকে অগ্রসরমান অধিক গতিশীল ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের সঙ্গে ধীরগামী ইউরেশীয় পাতের প্রবল সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষের ফলে অপেক্ষাকৃত ভারী ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতটি ভূগর্বে ইউরেশীয় পাতের তলদেশে প্রবেশ করে। এর ফলে উভয় পারে মধ্যবর্তী টেথিস মহীখাতে সঞ্চিত স্তরীভূত পলিরাশিতে প্রবল চাপ পড়ে। এই চাপের ফলে ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে হিমালয় পর্বতের উত্থান ঘটে। অন্যদিকে, ইউরেশীয় পাতের সম্মুখভাগ তিব্বত মালভূমি হিসেবে উঁচু হয়ে অবস্থান করে। ③ ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতটি এখনও প্রতি বন্ধ প্রায় 5.4 সেমি হারে উত্তর দিকে এগিয়ে চলেছে। তাই হিমালয় অঞ্চলে পাতজনিত সংঘর্ষ প্রক্রিয়াও এখনও কার্যকরী আছে। এর ফলে বর্তমানেও হিমালয়ের উত্থান ঘটে চলেছে।

Leave a Comment