ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কৃষক আন্দোলনের অগ্রগতি:-
ভূমিকা:- ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, বাংলা, গুজরাট, বোম্বাই, উড়িষ্যা, আসাম, মধ্যপ্রদেশ, মাদ্রাজ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রদেশের কৃষকশ্রেণি সক্রিয়ভাবে এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে।
[1] উদ্দেশ্য:- জমিদার ও অবস্থাপন্ন কৃষকরা কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে এবং জাতীয়তাবাদী লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়। নিম্নবর্ণের দরিদ্র কৃষকরা স্বপ্ন দেখেছিল যে, তাদের আন্দোলন সফল হলে দেশে স্বাধীনতা আসবে এবং দরিদ্র কৃষকদের দুর্দশা দূর হবে।
[ 2] বিহারে আন্দোলন:- বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, সাঁওতাল পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের আদিবাসী কৃষকরা আন্দোলনে যোগ দেয়। বিহারের ৮০ শতাংশ থানাই আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়। বিহারের দ্বারভাঙ্গার জমিদার আন্দোলনকারীদের শায়েস্তা করার সরকারি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি বন্দি কৃষকদের মুক্তির জন্যও তিনি উদ্যোগ নেন।
[3] বাংলায় আন্দোলন:- বাংলার মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমা, পটাশপুর থানা, খেজুরী থানা, দিনাজপুরের বালুরঘাট প্রভৃতি এলাকায় আন্দোলনরত কৃষকরা জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে।
[4] গুজরাটে আন্দোলন:- গুজরাটের সুরাট, খান্দেশ, ব্রোচ প্রভৃতিজেলায় কৃষকরা গেরিলা আক্রমণ চালায়। সুরাটে কৃষকরা রেলপথ অবরোধ করে, রেল-যোগাযোগ ছিন্ন করে এবং সরকারি নথিপত্র পুড়িয়ে দেয়।
[ 5] উড়িষ্যায় আন্দোলন:– উড়িষ্যার তালচেরে আন্দোলনকারী কৃষকরা চাষি মল্লা-রাজ প্রতিষ্ঠা করে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে।
উপসংহার:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় সারা ভারতে সংগঠিত কৃষক আন্দোলনগুলি ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে যথেষ্ট শক্তিশালী করে। এই সময় জমিদারদের বিরোধিতা নয়, সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতাই কৃষক আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর