ভারত ছাড়ো আন্দোলনের পরবর্তীকালে ভারতের প্রধান কৃষক আন্দোলনগুলি উল্লেখ করো।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (১৯৪২ খ্রি.) পরবর্তীকালে কৃষক আন্দোলন:-

ভূমিকা:- ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রভাব যথেষ্ট হ্রাস পায়। তবে এরপরও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কৃষক আন্দোলন চলতে থাকে। যেমন-

[1] মহারাষ্ট্র:- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রের দহনু ও উমাবরগাঁ তালুকে জমিদার ও ইজারাদারদের শোষণের বিরুদ্ধে ভারলিস উপজাতির আন্দোলন শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বামপন্থী নেতা দালভী ও পারুলেকর। এই আন্দোলনের ফলে বেগার প্রথা ও ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটে।

[2] বিহার:- বিহারে বকস্ত নামে জমি থেকে প্রজাদের উচ্ছেদের বিরদ্ধে কৃষকরা আন্দোলন করে। এটি বকস্ত আন্দোলন নামে পরিচিত।

[3]ত্রিবাজ্জ্বর:- ত্রিবাক্করের পুন্নাপ্রা-ভায়লার অঞ্চলের কৃষক ও শ্রমিকর কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে আন্দোলন চালায়। এর ফলে স্বাধীনত লাভের পর ত্রিবাঙ্কুরের ভারতভুক্তি সহজ হয়।

[4] বাংলা:- বাংলার রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোহয়, মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি প্রভৃতি জেলার বর্গাদার ব ভাগচাষিরা উৎপন্ন ফসলের ২/৩ অংশ পাওয়ার দাবিতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলন শুরু করে। এটি তেভাগা আন্দোলন নামে পরিচিত।

[5] হায়দ্রাবাদ:-হায়দ্রাবাদের তেলেঙ্গানা অঞ্চলে সামন্ততান্ত্রিক শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ কৃষক ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলন শুরু করে। এটি তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

উপসংহার:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনের পরবর্তীকালে সংঘটিত কৃষর আন্দোলনগুলির অধিকাংশই ছিল বিচ্ছিন্ন এবং বহুক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রবাল যুক্ত। অধিকাংশ আন্দোলনে বামপন্দ্বীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ ছিল বিশেন্ন উল্লেখযোগ্য।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment