ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে (১৯৪২ খ্রি.) নারী আন্দোলনের পরিচয় দাও।

ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে নারী আন্দোলন:-

ভূমিকা:- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৭ আগস্ট বোম্বাই শহরে কংগ্রেসের অধিবেশনে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। গান্ধিজি জাতির উদ্দেশ্যে বলেন যে, ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ এবং ভারতীয়দের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া দেশবাসী সন্তুষ্ট হবে না। তিনি বলেন, “আমরা করব বা মরব।”-“করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে”।

[1] নারীদের সক্রিয় যোগদান:- আন্দোলন ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই জাতীয় স্তরের প্রায় সব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে সর্বস্তরের ভারতবাসীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য নারীও সক্রিয়ভাবে এই আন্দোলনে শামিল হয়।

[ 2] জাতীয় ভরে আন্দোলন:- জাতীয় স্তরে সুচেতা কৃপালনী, নন্দিতা কৃপালনী ও অরুণা আসফ আলি নারীদের সংগঠিত করে এই আন্দোলনে শামিল করেন। অরুণা আসফ আলির নেতৃত্বে বোম্বাইয়ে আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।

[ 3] বাংলায় আন্দোলন:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনে বাংলার নারীদের অংশগ্রহণ বিশেষ গৌরবজনক ছিল। মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত নারীরা ভগিনী সেনা গঠন করে। কৃষক পরিবারের ৭৩ বছর বয়স্কা বৃদ্ধা গান্ধিবাদী মাতঙ্গিনী হাজরা মেদিনীপুরের তমলুক থানা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গান্ধিবুড়ি নামে পরিচিত হন। এ ছাড়া রানি চন্দ, এলা দত্ত, সুনীতা সেন, লাবণ্যপ্রভা দত্ত, মায়া ঘোষ প্রমুখ বঙ্গনারী ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলেন।

[4] আসাম ও পাঞ্জাবে আন্দোলন:- আসামের কিশোরী কনকলতা বড়ুয়া, পাঞ্জাবের গৃহবধু ভোগেশ্বরী ফুকোননী, ঊষা মেহতা প্রমুখ নারী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঊষা মেহতা গোপনে কংগ্রেসের বেতারকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

উপসংহার:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতের ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছে। আন্দোলনে নারীদের যোগদান প্রসঙ্গে গান্ধিজি মন্তব্য করেছেন যে, “ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস লেখার সময় নারীদের বীরত্বের কথা সর্বাধিক স্থান দখল করবে।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment