বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণগুলি কী কী?

উত্তর বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণসমূহ: বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চাপের তারতম্য যে কারণগুলির জন্য ঘটে, সেগুলি হল-

1. উয়তার প্রভাব: ① উন্নতা বৃদ্ধি ও বায়ুর চাপ: বায়ু উয় হলে প্রসারিত হয়। ফলে তার ঘনত্ব কমে যায় অর্থাৎ চাপ হ্রাস পায়। এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম হয়। ② উয়তা হ্রাস ও বায়ুর চাপ: উন্নতা কমলে বায়ু সংকুচিত হয়, ফলে তার ঘনত্ব বাড়ে। সুতরাং, চাপও বৃদ্ধি পায়। উভয় মেরু অঞ্চলে অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য বায়ুর চাপ বেশি হয়।

2. বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা হয় বলে এর চাপও কম হয়। এজন্য যেসব অঞ্চলের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে সেখানে বায়ুর চাপ কম হয়।

3 . উচ্চতার প্রভাব: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে উঠলে, বায়ুস্তরের গভীরতা বা বায়ুমণ্ডলীয় ভর ক্রমশ কমে যায় এবং এর ফলে বায়ুর চাপও হ্রাস পায়। এজন্য দুটি ভিন্ন উচ্চতায় অবস্থিত স্থানের মধ্যে যেটির উচ্চতা বেশি সেখানে বায়ুর চাপও অপেক্ষাকৃত কম হয়। যেমন-অসমের শিবসাগর ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং প্রায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও বেশি উচ্চতার জন্য দার্জিলিঙে বায়ুর চাপ শিবসাগরের তুলনায় অনেক কম থাকে।

4. পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাব: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যও বায়ুচাপের তারতম্য হয়। যেমন-পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ দুই মেরুর তুলনায় মেরুবৃত্তপ্রদেশে বেশি বলে মেরুবৃত্তপ্রদেশের বায়ু বেশি পরিমাণে বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে গিয়ে মেরুবৃত্তপ্রদেশে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে।

5. স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন: স্থলভাগ ও জলভাগের বিপরীতধর্মী চরিত্রের প্রভাবেও বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। দিনের বেলা জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আবার রাতেরবেলায় স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে  পড়ে এবং উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এইভাবে স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টনের জন্য চাপের তারতম্য ঘটে।

Leave a Comment