উত্তর বায়ুমণ্ডলের উপাদান: বায়ুমণ্ডল নানা ধরনের উপাদানে গঠিত। এই উপাদানগুলি হল-

1. গ্যাসীয় উপাদান: বায়ুমণ্ডলে যেসব গ্যাসীয় উপাদান আছে সেগুলির মধ্যে নাইট্রোজেন (শতকরা 78.08 ভাগ) এবং অক্সিজেন (শতকরা 20.94 ভাগ) প্রধান। এই দুটি গ্যাস ছাড়া বায়ুমণ্ডলে খুব অল্পমাত্রায় আর্গন (শতকরা 0.93 ভাগ), কার্বন ডাইঅক্সাইড (শতকরা0.03 ভাগ), হিলিয়াম, হাইড্রোজেন, ক্রিপটন, মিথেন, নিয়ন, ওজোন জেনন প্রভৃতি গ্যাস আছে। এদের মধ্যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও আর্গন বায়ুমণ্ডলের শতকরা প্রায় 99.95 ভাগ স্থান দখল করে আছে।

2. জলীয় বাষ্প: জলের গ্যাসীয় অবস্থাকে বলা হয় জলীয় বাষ্প। এই উপাদানটি সাগর, মহাসাগর, নদনদী, হ্রদ এবং অন্যান্য জলাশয়, গাছপালা প্রভৃতি থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে মেশে। বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ যদিও খুব সামান্য থাকে তবুও ঋতুভেদে বা অঞ্চলভেদে এই পরিমাণের কিছুটা তারতম্য হয়। যেমন-নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ুতে সারাবছর জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে এবং মেরু অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যন্ত কম। আবার যে-কোনো স্থানে বর্ষাকালে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে।
3 ধূলিকণা: বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে যথেষ্ট পরিমাণে ধূলিকণা থাকে এবং অন্যান্য গ্যাসীয় অণুর মতো ধূলিকণাও বাতাসে, ভেসে বেড়ায়। শুষ্ক মরু অঞ্চল বা সমুদ্রতীরের ধুলোবালি, লবণকণা, কলকারখানার পোড়া কয়লার ছাই প্রভৃতি সূক্ষ্ম ধূলিকণারূপে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এগুলিকে একত্রে অ্যারোসল বলে। মেরু অঞ্চলে এর পরিমাণ কম থাকে, শুষ্ক মরু অঞ্চলে এর পরিমাণ বেশি থাকে।