বারদৌলি আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। তুমি কি মনে কর যে, এই আন্দোলন ভূমিহীন কৃষকশ্রেণি এবং কৃষিশ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সফল হয়েছিল?

বারদৌলি আন্দোলন:-

ভূমিকা:- গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকের কৃষকরা ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এক শক্তিশালী সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করে, যা বারদৌলি সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত।

[1] কৃষকদের অবস্থা:- বারদৌলি তালুকের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক ছিল নিম্নবর্ণের কালিপরাজ সম্প্রদায়ভুক্ত। সীমাহীন দারিদ্র্য, সামাজিক অবজ্ঞা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

[2] আন্দোলনের কারণ:- ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ভয়ংকর বন্যায় বারদৌলি অঞ্চলের প্রচুর ফসল নষ্ট হয়। কৃষকরা দুর্ভিক্ষের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সরকার তাদের ওপর প্রথমে ৩০ শতাংশ এবং পরে তা কমিয়ে প্রায় ২২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে। ফলে কৃষকরা বিদ্রোহী হয়।

[3] প্যাটেলের নেতৃত্ব:- বারদৌলি সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কৃষকরা গান্ধিবাদী কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি এখানে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে অহিংস  প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন। বারদৌলির কৃষক-রমণীরা তাঁকে ‘সর্বার’ উপাধি দেন।

[4] অন্যান্য নেতৃত্ব:- আন্দোলনে নরহরি পারিখ, রবিশংকর ব্যাস, মোহনলাল পান্ডে প্রমুখ সর্দার প্যাটেলকে সহযোগিতা করেন। মিঠুবেন প্যাটেল, মণিবেন প্যাটেল, সারদা মেহতা, ভক্তি বাই প্রমুখ নারী এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

[5] প্রস্তাব:- আন্দোলনের সমর্থনে বোম্বাই বিধানসভার সদস্য কে এম মুনশি ও লালজি নারাণজি পদত্যাগ করেন। গান্ধিজিও বারদৌলিতে এসে আন্দোলনে নেতৃত্বদানের কথা ঘোষণা করেন। শেষপর্যন্ত সরকার নিযুক্ত এক কমিটি ৬.০৩ শতাংশ খাজনা বৃদ্ধি অনুমোদন করলে কৃষকরা তা দিতে রাজি হয়।

বারদৌলি কৃষকদের শক্তিশালী আন্দোলনে শেষপর্যন্ত ইংরেজ সরকার হার মেতে বাধ্য হয়। আন্দোলনের চাপে সরকার শেষপর্যন্ত ‘ব্লুমফিল্ড-যাক্সওয়েল তদন্ত কমিটি’ গঠন করে বর্ধিত রাজস্বের হার কমাতে বাধ্য হয়।

বারদৌলি আন্দোলন এবং ভূমিহীন কৃষকশ্রেণি ও কৃষি-এদিকদের স্বার্থরক্ষা:-

বারদৌলি প্রেমৌলি আন্দোলন গুজরাটের বারদৌলি তালুকের ভূমিহীন কৃষক ও বৃশ্রিমিকদের স্বার্থরক্ষায় বেশকিছু সাফল্য পেয়েছিল। যেমন-

 (1)কর বৃদ্ধি প্রত্যাহার:- ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ভয়ানক বন্যার ফলে বারদৌলির কৃষকদের ফসল নষ্ট হলে সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও সরকার বারদৌলির কৃষকদের উপর প্রথমে ৩০ শতাংশ এবং পরে তা পরিবর্তন করে প্রায় ২২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে। কিন্তু সত্যাগ্রহ আন্দোলনের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত একটি কমিটি নিয়োগ করে। এই কমিটি ৬.০৩ শতাংশ খাজনা বৃদ্ধি অনুমোদন করলে কৃষকরা তা দিতে রাজি হয়।

[2] কৃষক তহবিল প্রতিষ্ঠা:- সরকারের উদ্যোগে বারদৌলি কৃষকদের জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। আন্দোলনের অন্যতম নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দ্বারা তা পরিচালিত হয়। এই তহবিল কৃষকদের খাজনা ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা করেছিল।

[3] কৃষকদের অধিকারের স্বীকৃতি:- বারদৌলি সত্যাগ্রহ জমি ও ফসলের উপর কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে। ফলে কৃষকদের জীবিকার নিরাপত্তা বাড়ে।

[4] ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রেরণা:- বারদৌলি সত্যাগ্রহের সাফল্য ভারতজুড়ে অন্যান্য আন্দোলনকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার এবং তাদের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment