বাংলায় আধুনিক ছাপাখানার বা মুদ্রণশিল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সমালোচনা করো।

বাংলায় আধুনিক ছাপাখানা বা মুদ্রণশিল্প

ভূমিকা:– জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ১৪৫৪ খ্রিস্টাব্দে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র

আবিষ্কার করার এক শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপে মুদ্রণশিল্পের অভাবনীয় প্রসার ঘটে। ইউরোপে পোর্তুগিজরা প্রথম ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের গোয়ায় এই মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

[1] ভারতে মুদ্রণযন্ত্র:- অষ্টাদশ শতকের শেষ এবং উনিশ শতকের প্রথম

ভাগে ইউরোপের খ্রিস্টান মিশনারিরা ভারতের বিভিন্ন প্রানে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র বা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করলে এদেশে মুদ্রণশিল্পের পথ চলা শুরু হয়।

[2] বাংলায় মুদ্রণযন্ত্রের প্রতিষ্ঠা:– পোর্তুগিজ মিশনারিয়া অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বাংলায় আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র নিয়ে আসে। পরে ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে জেমস অগাস্টাদ হিকি কলকাতায় এবং ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিনস চুঁচুড়ায় হাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

[3] বাংলা অক্ষরের সূচনা:- পোর্তুগিজ মিশনারিরা প্রথমে নিজেদের দেশে রোমান হরফে ব্যালা বই ছাপিয়ে এদেশে নিয়ে আসেন। পরবর্তীকালে বাংলায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হলে চার্লস উইলকিনস প্রথম বাংলা অক্ষর তৈরি করেন। কিছুকাল পর হুগলি জেলার সুদক্ষ স্বর্ণশিল্পী পঞ্চানন কর্মকার বাংলা অক্ষরের উন্নত টাইপ তৈরি করেন।

[4] সুরেশচন্দ্র মজুমদারের অক্ষর:- পঞ্চানন কর্মকারের পরবর্তীকালে সুরেশচন্দ্র মজুমদার ‘লাইনো টাইপ’ নামক অরেও উন্নত ব্যালা অক্ষরের টাইপ তৈরি করেন। এই অক্ষরে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হালেদ রচিত ‘এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ নামক পূর্ণাল বইটি প্রকাশের (১৭৭৮-৭৯ খ্রি.) মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় বই ছাপা শুরু হয়।

[ 5] পূর্ববলো ছাপাখানা:-১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে পূর্ববদেশ প্রথম রংপুরে ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা হয়। ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপিত হয় ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে। এভাবে উনিশ শতকের শেষভাগে বাংলার নানা প্রান্তে ছাপাখানার প্রসার ঘটে।

উপদংহার:- উনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা ছাপাখানাগুলিকে কেন্দ্র করে বই ছাপা, কাগজ শিল্প, বই বাঁধাইয়ের কাজ প্রভৃতিতে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হয়। পাঠ্যপুস্তকের জন্য প্রয়োজনীয় চিত্র, ম্যাপ এবং হরফ নির্মাণকারী শিল্পীদের গুরুত্ব বাড়ে।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment