স্বদেশি আন্দোলনে কৃষকশ্রেণির ভূমিকা:-
ভূমিকা:- ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত করে ব্রিটিশ-বিরোধিতা দুর্বল করার চেষ্টা করেন। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জাতীয় স্তরের আন্দোলনে কৃষকদের মিশ্র ভূমিকা লক্ষ করা যায়।
[1] কংগ্রেসের ভূমিকা:- কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের শামিল করার বা খাজনা প্রদান বন্ধে কৃষকদের উৎসাহিত করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়নি। অরবিন্দ ঘোষ আশঙ্কা করেন যে, কৃষকরা খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু করলে দেশপ্রেমিক জমিদাররা ক্ষুথ হবেন। এজন্য ড. সুমিত সরকার বলেছেন যে, ‘সুনির্দিষ্ট কৃষিভিত্তিক কর্মসূচির অভাবে এই আন্দোলনে কৃষকদের যুক্ত করা যায়নি।’
[2] বাংলায় কৃষক আন্দোলন:- কংগ্রেস উদ্যোগ না নিলেও বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে বাংলার কৃষকরা স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনে সীমিতভাবে শামিল হয়। বহু কৃষক পরিবারে বিলাতি পণ্য বর্জন করা হয়। কৃষক পরিবারের রান্নাঘরে বিলাতি চিনি, লবণ প্রভৃতির ব্যবহার বন্ধ হয়।
[3] মুসলিম কৃষকদের ভূমিকা:- বাংলার হিন্দু কৃষকদের একাংশ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও পূর্ববঙ্গের মুসলিম কৃষকরা আন্দোলনে যোগ না দিয়ে বরং বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেছিল। কারণ তারা মনে করেছিল যে, পূর্ববঙ্গের মুসলিম কৃষকদের কাছে বঙ্গভঙ্গ মঙ্গলজনক।
[4] দলিত কৃষকদের ভূমিকা:-পূর্ববঙ্গের হিন্দু দলিত কৃষকশ্রেণি, বিশেষ করে নমঃশূদ্র কৃষকরা রাজেন্দ্রলাল মণ্ডলের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেছিল।
উপসংহার:- বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা ছিল সীমিত। তথাপি কংগ্রেসের সহযোগিতা ছাড়াই বেশ কিছু অঞ্চলে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রশংসার দাবি রাখে।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর