অন্তঃক্ষরা বা অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি:- যেসব গ্রন্থির ক্ষরিত রস নালির মাধ্যমে প্রন্থির বাইরে নিঃসৃত না হয়ে সরাসরি দেহরসে (রক্ত,লসিকা) মিশে যায়, তাদের অন্তঃক্ষরা বা অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি বলে। এই রকম গ্রন্থির কোনো নালি না থাকায় এদের অনাল গ্রন্থি (ductless gland) বলে। যেমন-থাইরয়েড, পিটুইটারি, অ্যাড্রেনাল ইত্যাদি।
বহিঃক্ষরা গ্রন্থি:- যেসব গ্রন্থির ক্ষরিত বস্তু নালির মাধ্যমে গ্রন্থিরবাইরে নিঃসৃত হয়, তাঁকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। এইরকম গ্রন্থিতে নালি থাকে বলে এদের সনাল গ্রন্থি (ductus gland) বলে। যেমন- যকৃৎ, লালাগ্রন্থি ইত্যাদি।
মিশ্রগ্রন্থি:- যেসব গ্রন্থি অনাল ও সনাল উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়েই গঠিত তাদেরই মিশ্রগ্রন্থি (mixed gland) বলে। অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয় এই রকমের গ্রন্থি।

অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে পার্থক্য:-
| পার্থক্যের বিষয় | অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি | অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি |
| 1. নালির উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি | নালি থাকে না। | নালি থাকে না। |
| 2. কাজের স্থান | এই প্রকার গ্রন্থির ক্ষরণ পদার্থ উৎসস্থল থেকে দূরবর্তী স্থানে ক্রিয়া করে। | এই প্রকার গ্রন্থি যে রস ক্ষরণ করে তা নালি দিয়ে গ্রন্থির বাইরে আসে এবং উৎপত্তিস্থলে এবং উৎপত্তিস্থল দূরবর্তী স্থানে ক্রিয়া করে। থেকে |
| 3. ক্ষরিত পদার্থ | এই প্রকার গ্রন্থির ক্ষরিত পদার্থ হল হরমোন। | এই প্রকার গ্রন্থির ক্ষরিত পদার্থ হল উৎসেচক পূর্ণ রস, যেমন-লালারস, অগ্ন্যাশয় রস, পাকরস, আন্ত্রিক রস ইত্যাদি। |
দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর