আইন অমান্য আন্দোলনের পরবর্তীকালে কৃষক আন্দোলন:-
ভূমিকা:- ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে আইন অমান্য আন্দোলন থেমে গেলেও কৃষক আন্দোলন ধীরগতিতে চলতে থাকে।
[1] নেতৃত্ব:- আইন অমান্য আন্দোলনের পরবর্তীকালে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন পি সি জোশী, অজয় ঘোষ, রাম মনোহর লোহিয়া, জয় প্রকাশ নারায়ণ, ই এম এস নাম্বুদ্রিপাদ, বঙ্কিম মুখার্জি, মোহন সিং প্রমুখ।
[2] কিষান সভার ভূমিকা:- এই সময়ের কৃষক আন্দোলনে কিষান সভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে লখনউতে সর্বভারতীয় কিষান সভা স্থাপিত হয়। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন বিহারের স্বামী সহজানন্দ এবং প্রথম সম্পাদক ছিলেন উত্তরপ্রদেশের এন জি রঙ্গ। এর প্রথম অধিবেশনে জওহরলাল নেহরু উপস্থিত ছিলেন।
[3] কৃষক-কল্যাণমূলক আইন:- কৃষক আন্দোলনের চাপে বিভিন্ন প্রদেশের কংগ্রেসি মন্ত্রীসভাগুলি কৃষকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি আইন পাস করে।
[4] পদযাত্রা:- অন্ধ্রপ্রদেশের কিষান সভার উদ্যোগে প্রায় ২ হাজার কৃষক ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ১৩০ দিন ধরে প্রায় ১৫০০ মাইল পদযাত্রা করে কৃষকদের দুর্দশার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে।
[ 5] ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা:- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হলে কৃষক আন্দোলন আবার গতিশীল হয়ে ওঠে।
উপসংহার:- আইন অমান্য আন্দোলনের পরবর্তীকালে বিভিন্ন বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নেতাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানের কৃষক আন্দোলনগুলি চলতে থাকে। পরবর্তীকালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষক আন্দোলন পুনরায় অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর