আইন অমান্য আন্দোলনের (১৯৩০ খ্রি.) সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

অইিন অমান্য আন্দোলন:-

ভূমিকা:- মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করে। ভারতবর্ষের সর্বস্তরের মনুষের অংশগ্রহণের ফলে এই আন্দোলন অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

[1] কারণ:- আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার পিছনে উল্লেখযোগ্য কারণগুলি ছিল-[1] দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিশ্ব-অর্থনীতিতে মহামন্দা প্রভৃতির ফলে ভারতীয় অর্থনীতির দুর্দশা, [ii] সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার প্রসার, [iii] বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সক্রিয়তা, [iv] ব্রিটিশ বাণিজ্যনীতির ফলে ভারতীয় বাণিজ্যের ক্ষতি প্রভৃতি।

[2] আন্দোলনের সূচনা:- গান্ধিজি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ ৭৮ জন অনুগামী নিয়ে সমুদ্রের উপকূলে গুজরাটের ডান্ডি নামক স্থানে লবণ আইন অমান্য ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ৬ এপ্রিল সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে সরকারি আইন ভঙ্গের মাধ্যমে তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেন।

[3] আন্দোলনের প্রসার:- আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তা শীঘ্রই বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, যুক্তপ্রদেশ, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, গুজরাট, বোম্বাই, মাদ্রাজ, কর্ণাটক প্রভৃতি অঞ্চলে প্রসার লাভ করে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গান্ধিবাদী নেতা খান আবদুল গফ্ফর খান (সীমান্ত গান্ধি)-এর নেতৃত্বে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।

 [4] ব্যর্থতা:- ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের বিভেদনীতি, ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ নীতি ঘোষণা, বর্ণহিন্দু ও দলিত হিন্দুদের মধ্যে বিরোধ প্রভৃতির ফলে এই আন্দোলন দুর্বল হতে শুরু করে। শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে (৮ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

উপসংহার:- আইন অমান্য আন্দোলন শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সংগ্রাম একেবারে থেমে যায়নি। পরবর্তীকালে ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এর চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা গিয়েছিল।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment