অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২ খ্রি.) পর্বে নারী আন্দোলনের পরিচয় দাও।

অহিংস অসহযোগ আন্দোলন পর্বে নারী আন্দোলন:-

ভূমিকা:- মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত অহিংস আন্দোলনে নারীসমাজও যুক্ত হয়ে পড়েন।

[1] বিলিতি পণ্য বর্জন:- অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় বহু নারী বিলিতি পণ্য মিছিল-মিটিং ও বিলিতি পণ্যের দোকানের সামনে পিকেটিং চালায়।

[ 2] বিক্ষোভ প্রদর্শন:- প্রিন্স অব ওয়েলস ভারত সফরে এলে (১৯২১ খ্রি.) বোম্বাইয়ে সহস্রাধিক নারী বিক্ষোভ দেখান। কলকাতার রাস্তায় প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখিয়ে বাসন্তী দেবী, ঊর্মিলা দেবী, সুনীতি দেবী প্রমুখ কারাবরণ করেন। নেলী সেনগুপ্তা ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে স্টিমার ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন।

[3 ] স্বদেশি পণ্যের প্রচার:- অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন নারী স্বদেশি প্রচার চালান। বহু নারী নিজেদের অলংকার এবং চরকায় সুতো কেটে ও কাপড় বুনে, তিলক স্বরাজ তহবিল-এ নিজেদের অর্থ দান করে আন্দোলনকে সফল করার উদ্যোগ নেন। ঊর্মিলা দেবীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নারী-কর্মমন্দির-এর সদস্যরা কলকাতায় আইন অমান্য করেন।

[4] আন্দোলনের নেতৃত্বে:- বাসন্তী দেবী, উর্মিলা দেবী, হেমপ্রভা মজুমদার, অ্যানি বেসান্ত, সরোজিনী নাইডু, জ্যোতির্ময়ী গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ নারী অসহযোগ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন।

[ 5] পরবর্তী আন্দোলন:- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ হওয়ার পরও নারীদের আন্দোলন চলতে থাকে। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার দীপালি সংঘের সদস্যরা আন্দোলন চালিয়ে যান। মহিলা রাষ্ট্রীয় সংঘও গ্রামে গ্রামে আন্দোলনের প্রচার চালায়।

উপসংহার:- অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করে। আন্দোলনে নারীদের সক্রিয়তায় উৎসাহিত হয়ে কংগ্রেস এই সময় নারীদের জন্য সদস্যপদ গ্রহণের দরজা খুলে দেয়। এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে বাসন্তী দেবী, উর্মিলা দেবী, নেলী সেনগুপ্ত, মোহিনী দেবী, লাবণ্যপ্রভা চন্দ প্রমুখ নারী ইতিহাসে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেন।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment