অধঃক্ষেপনের শ্রেণিবিভাগ: জলীয় বাষ্প হালকা বলে সহজেই ওপরে উঠে যায়। ওপরে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং ধূলিকণা, কয়লার কণা প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়ে মেঘরূপে ভেসে বেড়ায়। মেঘের মধ্যে ভাসমান অনেকগুলি জলকণা ও তুষারকণা যখন পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়তনে বাড়ে ও ভারী হয় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নীচের দিকে নেমে আসে, তখন তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। অধঃক্ষেপণ দুইভাবে হয়-① তরলরূপে এবং ② কঠিনরূপে।
1. তরঙ্গরূপে: তরলরূপে অধঃক্ষেপণ বলতে বৃষ্টিপাতকে বোঝায়। বৃষ্টিপাত দুই ধরনের, যথা-① সাধারণ বৃষ্টি এবং ② গুড়িগুড়ি বৃষ্টি।
① সাধারণ বৃষ্টি: মেঘের মধ্যে ভাসমান জলকণাগুলি যখন পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও ভারী হয় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে, তখন এই বৃষ্টিপাত সাধারণ বৃষ্টিপাত (Rain) নামে পরিচিত। এই বৃষ্টিপাত তিনপ্রকার-[i] পরিচলন বৃষ্টিপাত, [ii] শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ও [iii] ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত।
② গুড়িগুড়ি বৃষ্টি: অনেকসময় সমান আয়তনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা (ব্যাস 0.5 মিলিমিটারের কম) বিরামহীনভাবে মেঘ থেকে ভূপৃষ্ঠে পড়ে। দেখলে মনে হয় যেন জলকণাগুলি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। একে বলে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি (Drizzle)।
2. কঠিনরূপে: কঠিনরূপী অধঃক্ষেপণ তিনপ্রকার ① তুষারপাত,② স্লিট এবং ② শিলাবৃষ্টি।
① তুষারপাত: উর্ধ্বাকাশে বায়ুর উন্নতা যদি হিমাঙ্কের নীচে নেমে যায় তাহলে জলকণাসমূহ তুষারে পরিণত হয়। উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বা শীতপ্রধান অঞ্চলের বায়ু খুব শীতল বলে ওই তুষার সূক্ষ্ম সাদা ময়দা গুঁড়োর মতো নীচে পড়ে। একে বলে তুষারপাত (Snowfall)।
② স্লিট: যখন বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত একসঙ্গে হয় অথবা বৃষ্টির ফোঁটাগুলি ঊর্ধ্বাকাশের শীতল বায়ুস্তরের মধ্য দিয়ে আসার সময়, জমাট বেঁধে বরফকণায় পরিণত হয়ে ভূপৃষ্ঠে পড়ে, তাকে বলে স্লিট (Sleet)।
③ শিলাবৃষ্টি: ঊর্ধ্বাকাশে প্রবল ঊর্ধ্বগতিসম্পন্ন বায়ুর মাধ্যমে যখন মেঘ ও বৃষ্টির জলকণাসমূহ অনেক উঁচুতে খুব শীতল স্থানে চলে যায়, তখন প্রচণ্ড শৈত্যে ওই জলকণাসমূহ জমাট বেঁধে ছোটো ছোটো বরফে পরিণত হয়। পরে বৃষ্টির সঙ্গে বিভিন্ন আয়তনের ওই বরফের টুকরোগুলি মাটিতে পড়ে। একেই বলে শিলাবৃষ্টি (Hail Storm)।