CIBIL স্কোর কত হলে লোন পাওয়া যায়

CIBIL স্কোর কত হলে লোন পাওয়া যায়, জেনে নিন বিস্তারিত 

লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সিবিল (CIBIL) স্কোর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। ঋণ নেওয়ার সময় প্রতিটি ঋণ গ্রহীতার সিবিল যাচাই করা হয়। সহজভাবে লোন পাওয়া না পাওয়া এর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। স্কোর যত বেশি থাকে ঋণদাতার কাছে তা তত কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাই অনুমোদনের পাশাপাশি সুবিধাজনক সুদের হার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

যদিও, কত স্কোর হলে লোন পাওয়া যায় – এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় বলা মুশকিল, তবে একটা সাধারণ আন্দাজ করা যায়। যেমন, সিবিল স্কোর ৬৫০-এর নীচে গেলে ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে, ৬৫০ থেকে ৬৯৯-এর মধ্যে থাকলে সীমিত সুযোগ থাকে। সিবিল যদি ৭০০ থেকে ৭৫০-এর মধ্যে থাকে তাহলে সহজেই লোন মেলে, আর ৭৫০-এর বেশি হলে ঋণ গ্রহীতার প্রোফাইল খুবই ‘স্ট্রং’ বলে ধরা হয়। চলুন এই সিবিল স্কোর আদতে কি, কেমন করে স্কোর বাড়ানো যায় ও স্কোর ভালো রাখার জন্য কি কি করণীয়, সেসম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক। 

CIBIL স্কোরের অর্থ কি ?

সিবিল স্কোর হল ৩০০ থেকে ৯০০ – এর মধ্যে থাকা একটি তিন অংকের ক্রেডিট স্কোর, যা গ্রাহকদের অথনৈতিক শৃঙ্খলা ও ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা নির্ধারণ করে। যে ব্যক্তির স্কোর যত বেশি হয় তার প্রোফাইল ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ততই আদর্শ বলে মনে করা হয়। এই স্কোর দেখে ঋণদাতারা বুঝতে পারেন যে, লোন আবেদনকারী তার ক্রেডিট কার্ডটি কিভাবে ব্যবহার করেছেন বা আগের লোনটি তিনি ঠিকভাবে পরিশোধ করেছেন কিনা। 

বেশি স্কোর থাকলে আপনি গ্রাহক হিসাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, আর স্কোর যত কমের দিকে যাবে আপনার রেকর্ড ততই খারাপ বলে গণ্য হবে। উচ্চ স্কোর থাকা গ্রাহকদের ব্যাংক সহজেই লোন দিতে আগ্রহী থাকে, আর স্কোর কম হলে লোন ‘ডিফল্ট’ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই কম সিবিল-এর গ্রাহকদের বেশিরভাগ সময় লোনের আবেদন খারিজ হয়ে যায় কিংবা তাদের বেশি সুদে ধার নিতে হয়। 

কোন CIBIL স্কোরে কি ফল হয়?

৩০০ – ৫৪৯ স্কোর – খুবই দুর্বল বলে মনে করা হয়। এতে লোনের আবেদন নাকচ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

৫৫০ – ৬৪৯ স্কোর – এই স্কোরও দুর্বল প্রোফাইলকেই নির্দেশ করে। তবে এই স্কোরের সাথে কিছু ক্ষেত্রে ঋণ মঞ্জুর হতে পারে, তবে সুদের হার থাকে চড়া। 

৬৫০ – ৬৯৯ স্কোর – এটি মাঝারি মানের স্কোর। অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে এক্ষেত্রেও সুদের হার উচ্চ হতে পারে। 

৭০০ – ৭৪৯ স্কোর – খুবই ভালো স্কোর। ঋণদাতারা এইরকম সিবিল থাকা গ্রাহকদের লোন দিতে আগ্রহী থাকেন। 

৭৫০ – ৯০০ স্কোর – সবচেয়ে আদর্শ স্কোর। সহজ সুদের হারে দ্রুত লোনের অনুমোদন মেলে।

লোনের ভিন্নতার ওপর সিবিল স্কোরের প্রয়োজনীতা

সব ধরনের লোনের ক্ষেত্রে একরকম সিবিল স্কোরের দরকার পড়ে না। পার্সোনাল লোন সাধারণত অসুরক্ষিত (যে ঋণে জামানত রাখা হয় না) হওয়ায় ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলি বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে, তাই এক্ষেত্রে স্কোর বেশি হওয়ার প্রয়োজনীতা থাকে। 

হোম লোনের ক্ষেত্রে ব্যাংক ৭৫০ বা তার বেশি স্কোর পছন্দ করে থাকে, তবে সম্পত্তির মূল্য বা আবেদনকারীর স্থায়ী আয় বেশি হলে কিছুটা কম স্কোরও খুব একটা সমস্যা করে না। পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে ঋণদাতা ৭০০ বা তার বেশি স্কোরকে ভালো মনে করে। কিছু কিছু সংস্থা ৬৮৫ থেকে ৭৩০ এর মধ্যে নিজেদের ক্রাইটেরিয়া রাখে। 

সিবিল স্কোর ছাড়াও আর কি কি দেখা হয়?

সিবিল স্কোর অত্যন্ত জরুরি হলেও লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সিবিল দেখা হয় না। ব্যাংক এবং নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলি এর পাশাপাশি গ্রাহকের মাসিক আয়, কর্মের স্থিরতা, চলমান ইএমআই, ঋণ ও মাসিক আয়ের অনুপাত এবং ব্যাংকের স্টেটমেট দেখে। যদি গ্রাহকের স্কোর ৭০০-এর কাছাকাছি থাকে এবং তার আয় স্থায়ী হয় ও আগের লোনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকে – তাহলে লোন অ্যাপ্রুভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু স্কোর বেশি থাকা সত্ত্বেও যদি কর্মস্থানে স্থিতিশীলতা না দেখা যায়, তাহলে লেন্ডার অনেকক্ষেত্রে আবেদন বাতিলও করে দেয়।  তাই সিবিল স্কোরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একমাত্র মানদণ্ড নয়। 

কম স্কোর থাকলে কি কি সমস্যা হতে পারে ?

সিবিল স্কোর যদি ৬৫০-এর নীচে নেমে যায় তাহলেই লোন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। যদিও বা পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে সুদের হার বেশি থাকে, লোন অ্যামাউন্ট কম স্যাঙ্কশন হয় বা গ্যারেন্টর/কো-অ্যাপ্লিকেন্ট চাওয়া হয়। 

৬৫০-এর নীচে সিবিল স্কোর থাকা ঋণ আবেদনকারীদের ঋণদাতা ‘হাই রিস্ক’ বলে মনে করে। বিশেষ করে পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর ৩০০ থেকে ৫৪৯ রেঞ্জের মধ্যে সাধারণত লোন অ্যাপ্রুভ করাই হয় না। 

CIBIL কিভাবে বাড়ানো যায়?

সিবিল স্কোর বেশি রাখার জন্য গ্রাহককে তার সমস্ত ইএমআই সময়মতো পেমেন্ট করতে হবে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে তার বিলও সঠিকভাবে পেমেন্ট করে দিতে হবে। তবে ক্রেডিট কার্ডের লিমিট পুরোপুরি না ব্যবহার করাই ভালো, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহার করলে গ্রাহকের আর্থিক চাপের দিকে ইঙ্গিত করে। 

একসঙ্গে অনেকগুলি ক্রেডিট কার্ড বা লোনের জন্য আবেদন করলে সিবিল-এ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এমনটা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আগের কোনো লোনে ওভারডিউ, কোনো ডিসপিউট বা রিপোর্টে ভুল থাকলে, তা দ্রুত মিটিয়ে নিতে হবে। এর ফলে স্কোর ধীরে ধীরে উন্নত হতে পারে। 

কম CIBIL-এও কিভাবে লোন পাওয়া যাবে?

আপনার সিবিল স্কোর যদি ৬৫০-এর কম হয় কিন্তু আপনার ঋণের প্রয়োজনীয়তা থাকে, তাহলে হতাশ হবেন না। বিশেষ কয়েকটি পদক্ষেপ অবলম্বন করলে কম স্কোরেও আপনি লোন পেতে পারেন।

গ্যারেন্টার / কো-অ্যাপ্লিকেন্টের সন্ধান: ভালো সিবিল স্কোর আছে, এরকম কোনো পরিচিত ব্যক্তিকে জোগাড় করুন। 

সিকিওর্ড লোন:  জমি, বাড়ি বা সোনা জমা রেখে লোন নিলে, কম সিবিল স্কোরেও কাজ চলে যায়। 

নন-ব্যাংকিং সংস্থা: বেশ কিছু নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানি আছে, যারা ৬০০-এর ওপর স্কোর থাকলে লোন অ্যাপ্রুভ করে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে সমস্ত লেন্ডার সম্পর্কে খতিয়ে জেনে নেওয়া উচিত। 

দ্রুত স্কোর বৃদ্ধি: তিনমাস পরপর সময়মতো ইএমআই দিলে, স্কোর ৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

আরবিআই-এর নিয়ম: প্রথমবার লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোরে ছাড় দেওয়ার নিয়ম করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া।

সংক্ষেপে বললে, ৭০০-এর ওপর সিবিল স্কোর থাকলেলোন পাওয়া সহজ হয়। আর ৭৫০-এর বেশি হলে সুবিধাজনক শর্তাবলীর সাথে, কম সুদের হারে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার, এই স্কোরই ৬৫০-এর নীচে গেলে অ্যাপ্রুভালের সম্ভাবনা কমে, সুদের হার বাড়ে। আর ৫৫০-এর কম হলে লোন পাওয়া খুবই কঠিন। 

তাই পার্সোনাল লোন, হোম লোন বা কার লোনের প্রয়োজন হলে ৭৫০-এর কাছাকাছি বা তারও ওপরে স্কোর থাকা শ্রেয়। বিশেষ করে, পার্সোনাল লোনের মতো আনসিকিওরড লোনের ক্ষেত্রে। এই কারণে প্রতিটি ঋণ গ্রহীতার সিবিল স্কোরের দিকটি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

Leave a Comment