তুলো বা কাপাস চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ: তুলো ভারতের প্রধান তন্তু ফসল। তুলো চাষের জন্য যে যে ভৌগোলিক অবস্থা বিশেষভাবে প্রয়োজন, সেগুলি হল-
1. প্রাকৃতিক পরিবেশ
① জলবায়ু: তুলো ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। এখানকার মাঝারি ধরনের উয়তা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তুলো চাষ করা হয়। [i] উন্নতা: তুলো চাষের জন্য গড়ে 20°সে-26°সে উন্নতা প্রয়োজন। [ii] বৃষ্টিপাত: বার্ষিক 60-100 সেমি বৃষ্টিপাতে তুলো চাষ ভালো হয়। অবশ্য উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে জলসেচের সাহায্যে 60 সেমির কম বৃষ্টিপাতযুক্ত এলাকাতেও তুলো চাষ করা হচ্ছে। [iii] সামুদ্রিক বাতাস:সামুদ্রিক নোনা বাতাসে তুলো চাষ ভালো হয়।
② মৃত্তিকা: চুন মেশানো উর্বর দোআঁশ মাটি তুলো চাষের পক্ষে আদর্শ। এ ছাড়া, চারনোজেম মাটি এবং লাভা থেকে গঠিত দাক্ষিণাত্যের কালো রেগুর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে তুলো উৎপাদিত হয়।
③ ভূমির প্রকৃতি: তুলো গাছের গোড়াতে যাতে জল জমতে না পারে সেজন্য উত্তম জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত সমতল জমি বা সামান্য ঢালু জমি এই চাষের পক্ষে আদর্শ।
2. অর্থনৈতিক পরিবেশ
① শ্রমিক: গাছ লাগানো, গাছের পরিচর্যা করা, গুটি তোলা, গুটি থেকে আঁশ ছাড়ানো প্রভৃতি কাজের জন্য প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের দরকার হয়।
② সার: তুলো চাষে জমির উর্বরতা খুব দ্রুত কমে যায়। তাই জমিতে পরিমিত জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়।
③ কীটনাশক: তুলো গাছে প্রায়ই পোকা লাগে। যেমন-বল উইভিল নামে এক ধরনের পোকা তুলো চাষের খুব ক্ষতি করে। এজন্য তুলো চাষে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।
④ অন্যান্য: সার, কীটনাশক, উচ্চফলনশীল বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি, জলসেচ প্রভৃতির সাহায্যে তুলো চাষ করার জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া, বাজারে তুলোর চাহিদা, তুলো পরিবহণের ভালো ব্যবস্থা প্রভৃতিও তুলোর উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।