উপযোজন (Accomodation):- স্থান পরিবর্তন না করে অক্ষিগোলকের পেশি ও লেন্সের সাহায্যে যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় তাকে উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন বলে।সহজভাবে বলা যেতে পারে, চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বা ফোক্যাল লেংথ (focal length)-এর খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাকে উপযোজন বলে। লেন্স-এর দুপাশে সিলিয়ারি পেশি থাকে। এই পেশির সংকোচন ও শ্লথনের ফলে লেন্সের বক্রতার কিছু পরিবর্তন ঘটে। লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটায়। সুতরাং উপযোজন হল চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের প্রয়োজন মতো পরিমার্জন করার ক্ষমতা।

চোখ দৃশ্যমান বস্তুকে ফোকাসে রাখার জন্য লেন্সের আকারের নিম্নরূপে পরিমার্জন ঘটায়-
①দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে:- সিলিয়ারি পেশির শিথিলীকরণ→ লেন্স সরু বা পাতলা হয় লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটে।
② কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে:- সিলিয়ারি পেশির সংকোচন→ চোখের লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি লেন্স পুরু হয় দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। লেন্সের ফোকাস
প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজনের ভূমিকা:- প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-(i) রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাফিক সিগনাল বা পথনির্দেশ সঠিকভাবে দেখার জন্য সঠিক সময়ে লেন্সের উপযোজন না ঘটলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না। (ii) পথচারিদের রাস্তা পারাপারের সময় লেন্সের উপযোজন সঠিক ভাবে না হলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর