উত্তর নদী ও হিমবাহের কাজের পার্থক্য: নদী ও হিমবাহের কাছে মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল-
| বিষয | নদীর কাজ | হিমবাহের কাজ |
| কার্যস্থল | বরফাবৃত অঞ্চল ছাড়া সব জায়গায় নদীর কাজ দেখা যায়। | নিম্ন অক্ষাংশের উচ্চ পার্বত অঞ্চলে এবং উচ্চ অক্ষাংশের মেরু ও মেরুসংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহের কাজ লক্ষ করা যায়। |
| প্রবাহপথের বিভাজন | উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন এই তিনটি প্রবাহে নদী স্বতন্ত্র ধরনের কাজ করে। | হিমবাহের প্রবাহপথের কোনো নির্দিষ্ট ভাগ নেই। |
| কাজের গতি | নদী দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হয় বলে কাজের গতিও দ্রুত। | হিমবাহের গতি ধীর, তাই কাজের গতিও মন্থর। |
| ক্ষয়কাজের মাধ্যম | নদীর ক্ষয়কাজের মাধ্যম পাঁচটি, এগুলি হল- ঘর্ষণ ক্ষয়, ② অবঘর্ষ ক্ষয়, ③ জলপ্রবাহ ক্ষয়, ④ ক্ষয় এবং ⑤ দ্রবণ ক্ষয়। | হিমবাহের ক্ষয়কাজের মাধ্যম দুটি হল-① উৎপাটন ক্ষয় এবং বুদ্বুদ② অবঘর্ষ ক্ষয়। |
| ক্ষয় পদ্ধতি | নদী যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ করে। | হিমবাহ শুধু যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষয়কাজ করে। |
| কাজের ভিত্তি | প্রধানত ভূমির ঢাল, শিলাস্তরের প্রকৃতি এবং নদীতে জলের পরিমাণের ওপর নদীর কাজ নির্ভরশীল। | হিমবাহের কাজ নির্ভর কে মূলত বরফের পরিমাণ ও শিলাস্তরের প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। |
অন্যান্য পার্থক্য:-
| বিষয় | নদীর কাজ | হিমবাহের কাজ |
| গতিপথের প্রকৃতি | নদীর গতিপথ সাধারণত আঁকাবাঁকা হয়। | হিমবাহের গতিপথ সাধারণত সোজা হয়। |
| উপত্যকার আকৃতি | নদী উপত্যকা ‘T’ বা ‘V’ আকৃতির এবং উপত্যকা গাত্র এবড়োখেবড়ো বা অমসৃণ হয়। | হিমবাহ উপত্যকা ‘U’ আকৃতির এবং উপত্যকা গাত্র মসৃণ হয়। |
| ক্ষয়জাত পদার্থের আকৃতি | নদীর ক্ষয়জাত পদার্থগুলি গোলাকার ও মসৃণ হয়। | হিমবাহের ক্ষয়জাত পদার্থগুলি কোণাকৃতি ও অমসৃণ হয়। |
| সঞ্চয়স্থল | নদী তার বাহিত পদার্থগুলিকে ভারী থেকে হালকা এইভাবে নদীখাতে সঞ্চয় করতে করতে এগিয়ে যায়। | হিমবাহবাহিত বিভিন্ন প্রকার পদার্থ তার গতিপথের বিভিন্ন অংশে একইসঙ্গে সঞ্চিত হয়। |