“আর দেরি না করে এখুনি শুভ্রাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।” -কার, কখন এ কথা মনে হয়েছিল? এজন্য তাকে কী করতে দেখা গিয়েছিল?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে শুভ্রার দাদা ধীরেনের উল্লিখিত ভাবনাটি হয়েছিল। দিনের অবসানে তখন সন্ধ্যা সমাগতপ্রায়। আকাশ থেকে আলোর শেষ আভাসটুকু তখনও মুছে যায়নি। দু-তিনটি তারা আকাশে স্পষ্ট দৃশ্যমান। রাত্রি অপেক্ষমান। এরকম সময়েই ধীরেনের মনে হয় যে, জীবিতের সঙ্গে মৃতের সংযোগস্থাপনের সবথেকে প্রশস্ত সময় এই সন্ধ্যা। এরপরে রাত্রি নেমে এলে শূদ্রা হয়তো তার সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। তাই দেরি না করে শুভ্রাকে সুযোগ করে দেওয়ার কথা ভাবতে থাকে ধীরেন।

শুভ্রার সঙ্গে কথা বলার জন্য চোরের মতো ভিটে থেকে নেমে বাঁশ ডিঙিয়ে ধীরেন পা টিপে টিপে ডোবার মাঠের দিকে এগিয়ে গেল। কিছু পরে এক অদ্ভুত বিকৃত গলার ডাক শুনে ধীরেনের স্ত্রী শান্তি  লণ্ঠন হাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। এবং দেখে যে, বাঁশের ওপারে দাঁড়িয়ে হিংস্র জন্মর চাপা গর্জনের মতো গম্ভীর আওয়াজে ধীরেন তার নিজের নাম ধরে ডাকাডাকি করছে। তার গেঞ্জি আর কাপড়ে কাদা আর রক্ত মাখা। ঠোঁট থেকে চিবুক বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ধীরেন শান্তিকে বাঁশ সরিয়ে নিতে বলে কারণ সে সেই বাঁশ ডিঙোতে পারছিল না।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment