ধীরেনের বাড়িতে শুভ্রার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যা যা প্রতিক্রিয়া হয়েছিল নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে শুভ্রার মৃত্যু খুব স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে বেশি প্রভাবিত করেছিল ধীরেনকে। সাত মাসের গর্ভবর্তী বোনের জন্য সে পুকুরে ঘাট বানিয়ে দিয়েছিল, আর সেখানেই খুন হয়েছিল শুভ্রা। খুনী কে, কীভাবে সেখানে এল, তার উদ্দেশ্য কী ছিল-এইসব নিয়ে ধীরেন যথেষ্ট ভাবিত ছিল। অন্যদিকে আর-এক খুন হওয়া চরিত্র বলাই চক্রবর্তীর সঙ্গে শূদ্রাকে জড়িয়ে যে কলঙ্কিত কাহিনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রামবাসীদের তরফ থেকে চলছিল তা ধীরেনের মানসিক শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে দেয়। সে নিজেকে তার কর্মক্ষেত্র এবং সমাজ-পারিপার্শ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবতে শুধু করে।

ধীরেনের স্ত্রী শান্তি ভয়ে বাঁশ কেটে তার দু-প্রান্ত পুড়িয়ে ঘাটের পথে ফেলে রাখার পরিকল্পনা করেছিল যাতে তা ডিঙিয়ে অশরীরী আত্মা অনুপ্রবেশ না করতে পারে। সন্ধ্যার আগেই সে ইদানীংকালে রান্নাবান্না ঘরকন্নার কাজ শেষ করে রাখে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসার পরে ধীরেনকে সঙ্গে না নিয়ে বড়ো ঘরের চৌকাঠ পার হয় না। ছেলেমেয়েদেরও ঘরের মধ্যে আটকে রাখে।

তাদের ছেলেমেয়েরাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে,-“ছোটোপিসি ভূত হয়েছে।” তাদেরই মধ্যে কেউ সংশোধন করে দেয় যে ভূত নয়, পেত্নী হয়েছে। এভাবে পরিবারের সকলের ভাবনাচিন্তার কেন্দ্রে থেকে যায় অকালে খুন হয়ে যাওয়া শূদ্রা।

class 12 bengali question answer 4th semester

Leave a Comment