উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পে পড়ন্ত বিকেলে ধীরেন যখন ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে এল, ডোবার ধারে বাঁশঝাড়ের ছায়ায় সে মানুষের মতো কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখেছিল।
সমস্ত দুপুর ঘরের মধ্যে কাটিয়ে শেষবিকেলে ধীরেন যখন উঠোনে বেরিয়ে এসেছিল সেই সময়ে তার স্ত্রী শান্তি মাজা বাসন হাতে নিয়ে ঘাট থেকে উঠে আসছিল। ডোবার ধারে বাঁশঝাড়ের ছায়ায় মানুষের মতো কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখে ধীরেন আর্তনাদ করে ওঠে এবং সেখানে কে তা জানতে চায়। বোঝা যায় যে তার অবচেতনে কাজ করে যায় ওই ডোবার ঘাটে শুভ্রার খুন হওয়ার ঘটনা।
শান্তির হাত থেকে সেই চিৎকারে বাসন পড়ে যায়। বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে কোনো চেনা কণ্ঠস্বর উত্তর দেয় যে সে বাঁশ কাটছে। শান্তি জানায় যে, বাঁশ কাটার নির্দেশ সে-ই দিয়েছে। কারণ, ক্ষেন্তিপিসি বলেছে যে, নতুন একটা বাঁশ কেটে তার আগা-মাথা পুড়িয়ে ঘাটের পথে সন্ধ্যার আগে ফেলে রাখতে। অশরীরী শক্তির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। ঘাট থেকে শুভ্রা যদি বাড়ির উঠোনে উঠে আসতে চায় সেই ‘বাঁশ পর্যন্ত এসে ঠেকে যাবে’। শান্তি ধীরেনকে সতর্ক করে সে যাতে ভুল করে বাঁশটা ডিঙিয়ে না যায়।