উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হলুদ পোড়া’ গল্পের উল্লিখিত অংশে বুড়ো ঘোষাল বলতে গ্রামের বয়স্ক মানুষ পঙ্কজ ঘোষালকে বোঝানো হয়েছে।
নবীনের স্ত্রী দামিনী যখন সন্ধ্যাবেলা লণ্ঠন হাতে রান্নাঘর থেকে উঠোন পার হয়ে শোওয়ার ঘরে যাচ্ছিল সেই সময় খুব হালকা একটা দমকা বাতাস বাড়ির পূব কোণের তেঁতুল গাছের পাতা ছুঁয়ে তার গায়ে এসে লাগে। দামিনীর হাত থেকে লণ্ঠন ছিটকে গিয়ে পড়ে দক্ষিণের ঘরের বারান্দায়। উঠোনে ছিটকে পড়ে হাত-পা ছুঁড়তে খুঁড়তে দামিনী অজ্ঞান হয়ে যায়। শুভ্রার দাদা ধীরেন পাস না করা হলেও গ্রামের একমাত্র ডাক্তার। তাকেই ডেকে আনা হয় দামিনীর চিকিৎসার জন্য।
কিন্তু দামিনীকে দেখে ধীরেন বলে যে, সে চিকিৎসা করতে পারে কিন্তু যেহেতু সে পাস করা ডাক্তার না, তাই দায়িত্ব নিতে ভরসা পাচ্ছে না। শা’সুরের কৈলাশ ডাক্তারকে ডাকার পরামর্শও সে দিয়েছিল। এই আবহে পঙ্কজ ঘোষাল মন্তব্য করে যে, দামিনীর অসুখে ডাক্তারে কোনো লাভ হবে না। তিনি নবীনকে পরামর্শ দেন কুক্ত গুনিনকে অবিলম্বে ডেকে পাঠানোর জন্য।
সেখানে উপস্থিত গ্রামের লোকেরা ঘোষালকে সমর্থন করে। নবীন কুঞ্জর পারিশ্রমিকের খোঁজ করে। কিন্তু ধীরেন তীব্র আপত্তি জানায়। নবীনের মতো একজন লেখাপড়া জানা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি যেন কুক্ত গুনিনে ভরসা করার মতো ‘দুর্বুদ্ধি’ না করে, সে বিষয়ে ধীরেন তাকে সচেতন করে দেয়। নবীন পালটা যুক্তি হিসেবে বলে যে ‘খাপছাড়া অসুখে’ গুনিনদের চিকিৎসাতেই ভালো ফল পাওয়া যায়। শেষপর্যন্ত অবশ্য সহপাঠী ধীরেনকেও সে এড়াতে পারে না। নবীন কৈলাশ ডাক্তার এবং কুঞ্জ দুজনকে আনতেই লোক পাঠিয়ে দেয়।