বিশ শতকে ভারতে কৃষক আন্দোলনের অগ্রগতির পরিচয় দাও। 

  বা বিশ শতকে ভারতে কৃষক আন্দোলনের বর্ণনা দাও।

বিশ শতকে ভারতে কৃষক আন্দোলন:-

ভূমিকা:- বিশ শতকে ভারতের কৃষক আন্দোলনে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব গড়ে। এই সময় ব্রিটিশ-বিরোধী বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে কৃষকশ্রেণি সক্রিয়ভাবে যোগদান করে।

[1] বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময়:- কংগ্রেস নেতাদের উদ্যোগের অভাবে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সময় কৃষকশ্রেণি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনি। ড. সুমিত সরকার বলেছেন যে, ‘সুনির্দিষ্ট কৃষিভিত্তিক কর্মসূচির অভাবে এই আন্দোলনে কৃষকদের যুক্ত করা যায়নি। তা ছাড়া পূর্ববঙ্গের মুসলিম কৃষকরা বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেছিল।

[2] অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময়: অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের (১৯২০-২২ খ্রি.) সময় গান্ধিজির ডাকে সারা দেশের বহু কৃষক এই আন্দোলনে শামিল হয়।

[i] বাংলা:-  বাংলার মেদিনীপুর, পাবনা, কুমিল্লা, রাজশাহি, বগুড়া, রংপুর, বীরভূম, দিনাজপুর, বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলার বহু কৃষক আন্দোলনে অংশ নে

[ii] বিহার:- বিহারের ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, মুঙ্গের, দ্বারভাঙ্গা, মধুবনী, সীতামারি প্রভৃতি জেলার কৃষকরা আন্দোলনে যোগ দিয়ে জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।

[iii] যুক্তপ্রদেশ:- যুক্তপ্রদেশে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশে) বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ রাজ্যের হরদৈ, বারাবাঁকি, সীতাপুর, বারাইচ প্রভৃতি জেলার কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে শামিল হয় যা একা আন্দোলন নামে পরিচিত।

(iv) অন্যান্য প্রদেশ:- অস্ত্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার কৃষকরা, পাঞ্জাবের অকালী শিখ ও জাঠ কৃষকরা, উড়িষ্যার কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষকরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অসহযোগ আন্দোলনের পরবর্তীকালে কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেল গুজরাটের দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে বারদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮ খ্রি.) করেন।

[iii] যুক্তপ্রদেশ:- যুক্তপ্রদেশে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশে) বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ রাজ্যের হরদৈ, বারাবাঁকি, সীতাপুর, বারাইচ প্রভৃতি জেলার কৃষকরা একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে শামিল হয় যা একা আন্দোলন নামে পরিচিত।

(iv) অন্যান্য প্রদেশ:- অস্ত্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার কৃষকরা, পাঞ্জাবের অকালী শিখ ও জাঠ কৃষকরা, উড়িষ্যার কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষকরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অসহযোগ আন্দোলনের পরবর্তীকালে কংগ্রেস নেতা বল্লভভাই প্যাটেল গুজরাটের দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে বারদৌলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮ খ্রি.) করেন।

[3 ] আইন অমান্য আন্দোলনের সময়:- আইন অমান্য আন্দোলনেও (১৯৩০-৩৪ খ্রিস্টাব্দে) বিভিন্ন প্রদেশের কৃষকশ্রেণি সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

[i] উত্তরপ্রদেশ:- রায়বেরিলি, আগ্রা, বারাবাঁকি, লখনউ, প্রতাপগড়-সহ উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে এখানে আইন অমান্য আন্দোলন প্রকৃত গণ আন্দোলনে পরিণত হয়।

[ii] বিহার:- স্বামী সহজানন্দ, যদুনন্দন শর্মা প্রমুখের নেতৃত্বে গঠিত কিষান সভা বিহারে কৃষকদের আন্দোলনে শামিল করে।

[iii] বাংলা:- বাংলার কাঁথি, মহিষাদল, আরামবাগ, শ্রীহট্ট প্রভৃতি স্থানে কৃষকরা আন্দোলনে যোগ দেয়।

[iv] গুজরাট:- গুজরাটের সুরাট, বারদৌলি, খেদা প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালিয়ে যায়।

[v] অন্যান্য প্রদেশে:- কেরলর কেলাপ্পান এবং অস্ত্রে বাল রামকৃষ্ণ কৃষকদের খাজনা বন্ধে উৎসাহিত করেন। মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, পাঞ্জাবেও সেচকর ও রাজস্ব কমানোর দাবিতে কৃষকরা আন্দোলনে যোগ দেয়।

[4] ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়:- ভারত ছাড়ো আন্দোলনে দেশ উত্তাল হয়ে উঠলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরাও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

[i] বিহার:- বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, সাঁওতাল পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের আদিবাসী কৃষকরা আন্দোলনে যোগ দেয়। বিহারের ৮০ শতাংশ থানাই আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়।

[ii] বাংলা:- বাংলার মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমা, পটাশপুর থানা, খেজুরী থানা, দিনাজপুরের বালুরঘাট প্রভৃতি এলাকায় আন্দোলনরত কৃষকরা জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে।

[iii] গুজরাট:- গুজরাটের সুরাট, খান্দেশ, ব্রোচ প্রভৃতি জেলায় কৃষকরা গেরিলা আক্রমণ চালায়।

[iv] উড়িষ্যা:- উড়িষ্যার তালচেরে আন্দোলনকারী কৃষকরা চাষি মল্লা-রাজ প্রতিষ্ঠা করে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে।

উপসংহার:- বিশ শতকে কৃষক আন্দোলন যথেষ্ট সক্রিয় হলেও ভারতের সর্বত্র কৃষকদের এই আন্দোলনে শামিল করা যায়নি। কোনো কোনো কংগ্রেস নেতা কৃষকদের খাজনা বন্ধের আন্দোলনে শামিল করে জমিদারদের ক্ষিপ্ত করতে চাননি। কেন-না, জমিদাররা কংগ্রেসের সক্রিয় সমর্থক ছিল। বহু ক্ষেত্রে মুসলিম কৃষকরা কংগ্রেস পরিচালিত আন্দোলন থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।

ক্লিক করুন দশম শ্রেণির ইতিহাস এর সমস্ত অধ্যায় অনুযায়ী তার সব প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment